ঘটনার দুই মাস পার হলেও সাতক্ষীরায় শিশু ফাহিম হত্যা তদন্তে প্রত্যাশিত অগ্রগতি না হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তার মা ফয়জুন নাহার। মঙ্গলবার বিকাল ৩টার দিকে খুলনার বয়রা বাজার এলাকায় তার এক আত্মীয়র বাসায় অবস্থানকালে বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, পুলিশের তদন্তে গাফিলতির কারণে মামলাটির তদন্ত সিআইডিতে স্থানান্তর করা হয়েছে। কিন্তু সেখানেও গতিশীলতা দৃশ্যমান হচ্ছে না। পুলিশ তিনজনকে আটক করে জেলহাজতে পাঠালেও প্রভাবশালী আসামিরা বাইরে রয়ে গেছে। ফাহিম হত্যার রহস্য উন্মোচিত হলেও তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে না।
সিআইডি সাতক্ষীরার পুলিশ পরিদর্শক শেখ মেজবাহ উদ্দিন জানান, তিনি ২-৪ দিন আগেই ফাহিম হত্যা মামলার নথি হাতে পেয়েছেন। এখন নথিপত্র পর্যালোচনা করছেন।
ঘটনাটি সঠিক বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, নথি পর্যালোচনা শেষে আগামী সপ্তাহ থেকে তিনি মাঠ পর্যায়ের তদন্ত শুরু করতে পারবেন।
উল্লেখ্য, দু’দিন নিখোঁজ থাকার পর গত ১৫ জুন সন্ধ্যায় সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কুশখালী সীমান্ত সংলগ্ন পাট খেত থেকে শিশু ফাহিমের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। ফাহিম সদর উপজেলার মৃগিডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবা মনিরুল ইসলাম মালয়েশিয়া প্রবাসী। মা ফয়জুন নাহারের সঙ্গে ফাহিম কুশখালী গ্রামে নানা হাজী মোহাম্মদ আলীর বাড়িতে থাকতো। শিশু ফাহিম সাতক্ষীরায় নৃশংস খুনের শিকার হয়। এক কেজি মাংস নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার কারণে ঘাতকরা তাকে বেদম মারধর করে। এরপর আঘাতস্থলে রক্ত পড়া থামাতে ফেভিকল আঠা লাগিয়ে দেওয়া হয়। ধারাবাহিক নির্যাতনের পর মারা যায় ফাহিম। পরে তার লাশ নিয়ে সীমান্ত এলাকার একটি পাট খেতে ফেলে রাখা হয়।
লাশ উদ্ধারের পর নিহতের চাচা মো. সিদ্দিক আলী বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর সাতক্ষীরা সদর থানার এসআই আবুল কালাম আজাদ শুরুতে মামলাটির তদন্ত করেন। তিনি গত ১৮ জুন কুশখালী গ্রামের মুজিবর রহমানের স্ত্রী ছফুরা খাতুন, ছেলে ইব্রাহিম হোসেন ও ইস্রাফিল হোসেনকে গ্রেফতার করেন। এরা তিন জন বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছেন। একই সময়ে ইস্রাফিলের স্ত্রী তামান্না খাতুন ও বাবা মুজিবুর রহমানকে আটক করা হলেও পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। তামান্না রাজসাক্ষী হিসেবে আদালতে জবানবন্দি দেন। এরপর মামলাটির তদন্তভার পুলিশের কাছ থেকে সিআইডতে পাঠানো হয়।
আরও পড়ুন: যশোরে মাদ্রাসার দুই শিক্ষক আটক
/এআর/








