শিশু ফাহিম হত্যা তদন্তে অগ্রগতি না হওয়ায় মায়ের অসন্তোষ

খুলনা প্রতিনিধি
১৬ আগস্ট ২০১৬, ২০:২০আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০১৬, ২১:০৫

শিশু-ফাহিম ঘটনার দুই মাস পার হলেও সাতক্ষীরায় শিশু ফাহিম হত্যা তদন্তে প্রত্যাশিত অগ্রগতি না হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তার মা ফয়জুন নাহার। মঙ্গলবার বিকাল ৩টার দিকে খুলনার বয়রা বাজার এলাকায় তার এক আত্মীয়র বাসায় অবস্থানকালে বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, পুলিশের তদন্তে গাফিলতির কারণে মামলাটির তদন্ত সিআইডিতে স্থানান্তর করা হয়েছে। কিন্তু সেখানেও গতিশীলতা দৃশ্যমান হচ্ছে না। পুলিশ তিনজনকে আটক করে জেলহাজতে পাঠালেও প্রভাবশালী আসামিরা বাইরে রয়ে গেছে। ফাহিম হত্যার রহস্য উন্মোচিত হলেও তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে না।
সিআইডি সাতক্ষীরার পুলিশ পরিদর্শক শেখ মেজবাহ উদ্দিন জানান, তিনি ২-৪ দিন আগেই ফাহিম হত্যা মামলার নথি হাতে পেয়েছেন। এখন নথিপত্র পর্যালোচনা করছেন।
ঘটনাটি সঠিক বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, নথি পর্যালোচনা শেষে আগামী সপ্তাহ থেকে তিনি মাঠ পর্যায়ের তদন্ত শুরু করতে পারবেন।

উল্লেখ্য, দু’দিন নিখোঁজ থাকার পর গত ১৫ জুন সন্ধ্যায় সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কুশখালী সীমান্ত সংলগ্ন পাট খেত থেকে শিশু ফাহিমের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। ফাহিম সদর উপজেলার মৃগিডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবা মনিরুল ইসলাম মালয়েশিয়া প্রবাসী। মা ফয়জুন নাহারের সঙ্গে ফাহিম কুশখালী গ্রামে নানা হাজী মোহাম্মদ আলীর বাড়িতে থাকতো। শিশু ফাহিম সাতক্ষীরায় নৃশংস খুনের শিকার হয়। এক কেজি মাংস নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার কারণে ঘাতকরা তাকে বেদম মারধর করে। এরপর আঘাতস্থলে রক্ত পড়া থামাতে ফেভিকল আঠা লাগিয়ে দেওয়া হয়। ধারাবাহিক নির্যাতনের পর মারা যায় ফাহিম। পরে তার লাশ নিয়ে সীমান্ত এলাকার একটি পাট খেতে ফেলে রাখা হয়।

শিশু ফাহিম লাশ উদ্ধারের পর নিহতের চাচা মো. সিদ্দিক আলী বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর সাতক্ষীরা সদর থানার এসআই আবুল কালাম আজাদ শুরুতে মামলাটির তদন্ত করেন। তিনি গত ১৮ জুন কুশখালী গ্রামের মুজিবর রহমানের স্ত্রী ছফুরা খাতুন, ছেলে ইব্রাহিম হোসেন ও ইস্রাফিল হোসেনকে গ্রেফতার করেন। এরা তিন জন বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছেন। একই সময়ে ইস্রাফিলের স্ত্রী তামান্না খাতুন ও বাবা মুজিবুর রহমানকে আটক করা হলেও পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। তামান্না রাজসাক্ষী হিসেবে আদালতে জবানবন্দি দেন। এরপর মামলাটির তদন্তভার পুলিশের কাছ থেকে সিআইডতে পাঠানো হয়।

আরও পড়ুন: যশোরে মাদ্রাসার দুই শিক্ষক আটক

/এআর/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম