সাকিব আল হাসানকে নামিয়ে দিয়ে ফেরার পথে কক্সবাজারের উখিয়ার হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত সাতক্ষীরার শাহ আলমের বাবা মা আর স্বজনদের বুক ফাটা আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে গ্রামের বাতাস। শনিবার সকাল থেকে এমনই এক চিত্র বিরাজ করেছে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের চাম্পাফুল ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামে মুক্তিযোদ্ধা শেখ শামসুর রহমানের বাড়িতে।
হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন গ্রামের ছেলে শাহ আলম। সেই শোক বাতাসে ছড়িয়ে পড়েছে। একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থার কর্মকর্তা শাহ আলম শেষ ঈদ করেছেন ঢাকায় বোনের সঙ্গে। এরপর ফিরে গেছেন কর্মস্থলে। কথা ছিল বিজ্ঞাপনী শুটিং শেষ করে বাড়িতে ফিরবেন শাহ আলম। তা আর হয়নি। শুক্রবার ক্রিকেট তারকা অল রাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে কক্সবাজার ইনানি সৈকতে নামিয়ে ঢাকা ফেরার পথে দুর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছে শাহ আলমের প্রাণ।
শাহ আলমকে পারিবারিক গোরস্থানে কবর দেওয়া হয় দুপুর ৩ টায়।
কান্না জড়িত কন্ঠে ওর মামা কলেজ ছাত্র শাকিল খান বললেন শনিবার দুপুর ১২ টার দিকে শাহ আলমের দেহ লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছালো বাড়ির আঙ্গিনায়। ততক্ষনে গ্রামজুড়ে মানুষের চোখ অশ্রুতে ভরে উঠেছে। বুক চাপড়ে ওর মা লতিফুন বেগম বিলাপ করছেন। ওর বাবার আকুতি ঈদে বাড়ি আসলে ওকে মরতে হতো না।
মাত্র দেড়বছর আগে শ্যামনগরের খানপুর গ্রামের মেয়ে রুমা খাতুনকে বিয়ে করেছিলেন শাহ আলম। ঢাকার যাত্রাবাড়িতে বড়বোন সাবিনার বাসায় থাকেন ওরা। রুমা শোকে পাথর হয়ে গেছেন।
পুরো বাড়ি জুড়ে এখন শোকের মাতম। দলে দলে আসছেন গ্রামের মানুষ। বলছেন ‘ওর মতো এমন ভালো ছেলে আর হয় না’।
গ্রামের স্কুলে প্রাথমিক শেষ করে বরেয়া মিলনী হাইস্কুল থেকে এসএসসি পাশ করেন শাহ আলম। তারপর কালিগঞ্জ কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে ঢাকার হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজ থেকে হিসাব বিজ্ঞানে মাস্টার্স করেছেন শাহ আলম।
দুপুরে শাহ আলমের জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে বাড়ির পাশে রাজাপুর মসজিদের আঙ্গিনায়। বৃষ্টির মধ্যেও জানাযায় হাজির হন অগনিত মানুষ। ছিলেন চাম্পাফুল ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আবদুর রউফ, ইউপি সদস্য শাহিনুল খান, মো. আবুবকর , আবদুস সাত্তার ছাড়াও মান্য ব্যক্তিরা ।
/এইচকে/








