প্রতি বছর ঈদুল আজহায় কোরবানি পশুর চামড়া সাতক্ষীরাসহ দেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচার হয়। এ বছর যাতে কোনও চোরাকারবারিরা সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে ভারতে কোনও পশুর চামড়া পাচার করতে না পারে সে জন্য সীমান্তে বিজিবি কঠোর নজরদারিতে রয়েছেন। চামড়া পাচার প্রতিরোধে সাতক্ষীরার ২৭৮ কিলোমিটার সীমান্ত জুড়ে বিজিবির নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
পাশাপাশি সীমান্ত জুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে সাদা পোশাকে গোয়েন্দা বাহিনীর নজরদারি।
এদিকে ট্যানারি মালিকদের নির্ধারণ করা মূল্যে পশুর চামড়া বিক্রি করতে না পেরে চামড়া নিয়ে বিপাকে পড়েছেন মৌসুমী ব্যবসায়ীরা। আর এ কারণে সীমান্ত দিয়ে চামড়া পাচারের আশঙ্কা করছেন অনেকেই।
একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানা গেছে, জেলার কলারোয়া, পাটকেলঘাটা, পারুলিয়া সীমান্তের চামড়া, ভাদিয়ালি, হেলাতলা, সাতক্ষীরা শহর, সাতানিসহ কয়েক এলাকার কয়েকজন চোরাকারবারীরা চামড়া পাচারের জন্য তৎপর রয়েছে। যেকোনও মুহূর্তে সুযোগ বুঝে তারা চামড়া পাচার করবে।
সাতক্ষীরা ৩৮ বিজিবি’র ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর সৈয়দ মোহাম্মদ লুকমান হামিদ পিপিএম জানান, সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে যাতে ভারতে চামড়া পাচার না হয় এ জন্য ব্যাটালিয়নের আওতাধীন জলসীমার সব এলাকাজুড়ে কঠোর নজরদারি রয়েছে। কোনও চোরাচালানি যাতে এপার থেকে ওপারে চামড়া পাচার করতে না পারে সেজন্য বিজিবি সীমান্ত জুড়ে বিশেষ সতর্কাবস্থাসহ গোয়েন্দা নজরদারি রয়েছে। এছাড়া সীমান্ত দিয়ে যেকোনও ধরনের পাচার ও জঙ্গি-সন্ত্রাস প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে ।
বিজিবি’র নিলডুমুর ১৭ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল এনামুল আরিফ সুমন জানান, পানি পথসহ সীমান্তের ১৬টি বিজিবি ক্যাম্প এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিজিবি’র সদসস্যরা সবসময় সীমান্ত এলাকায় তৎপর রয়েছে। চামড়া পাচার রোধে বিজিবি কাউকে ছাড় দেবে না।
সাতক্ষীরার চামড়া ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, প্রতি বছর কোরবানির আগে হুন্ডির মাধ্যমে ভারতীয় চামড়া ব্যবসায়ীরা এদেশে ক্ষুদ্র চামড়া ব্যবসায়ীদের হাতে কোটি কোটি টাকা পাঠিয়ে থাকে। কোরবানির চামড়ায় তাদের আকর্ষণ বেশী থাকায় এবারও তারা চোরাপথে টাকা পাঠিয়েছে। সাতক্ষীরা জেলার সীমান্ত এলাকার মৌসুমী ব্যবসায়ীসহ হাট বাজারের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ভারতীয় মাড়োয়ারদের টাকা নিয়ে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশী দামে চামড়া কিনে মজুদ করে রেখেছে। সময় সুযোগ বুঝে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অসাধু সদস্যদের ম্যানেজ করে চামড়া ভারতে চলে যাবে। মাঠ পর্যায় থেকে সংগ্রহকৃত চামড়ায় এখন লবন দিয়ে প্রক্রিয়াজাত করে রাখার কাজ চলছে। এতে করে আমাদের মতো প্রকৃত ব্যবসায়ীদের লোকশান হবে। এজন্য আইনশৃংঙ্খলাবাহিনীসহ সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর কাছে দাবি, যাতে করে এদেশ থেকে চামড়া পাচার না হতে সেদিকে খেয়াল রাখা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: বরগুনায় শ্রমিক নেতাকে কুপিয়ে হত্যা
/এআর/








