বিদেশি প্রভুদের সন্তুষ্ট করতে সরকার রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘রামপালে কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মিত হলে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হবে। এ কারণেই এ অঞ্চলের মানুষকে আন্দোলনের মাধ্যমে কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রতিহত করতে হবে।’ শনিবার দুপুরে খুলনায় ‘দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন ভাবনা ও সুন্দরবন শীর্ষক’ এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
সুন্দরবনের কোনও বিকল্প নেই দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘পরিবেশ ও জীবন-জীবিকা ধ্বংসকারী এই প্রকল্পটি কেন বনের কাছে রামপালেই করতে হবে?’ তিনি অভিযোগ করেন, ‘এই সরকার দেশের ১৬ কোটি মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে না। তারা জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সাংবিধানিক সরকার নয়।’
রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘জনগণের স্বার্থের রাজনৈতিক দল বিএনপি এ সংগ্রামে আপনাদের পাশে রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হলে সরকারের পছন্দমতো নির্বাচন কমিশন গঠন করে আগামীতেও পাতানো নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়।’
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আরও বলেন, ‘পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে বলছেন, রামপালে তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হলে এর ফল শুভ হবে না।’ তিনি ইউনেস্কোর সাম্প্রতিক একটি রিপোর্ট উল্লেখ করে বলেন, ‘ইউনেস্কোও চাচ্ছে না বিশ্বঐতিহ্য সুন্দরবনের কাছে কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র হোক। তাদের রিপোর্টে বলা হয়েছে, রামপালে বিদ্যুৎ কেন্দ্র হলে সুন্দরবন ধংস হয়ে যাবে। বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞরাও এ প্রকল্প বন্ধের জন্য দাবি জানিয়েছেন।’
সভায় ন্যাশনালিস্ট টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিমের সভাপতিত্ব করেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাশনালিস্ট টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন (এনটিএ)-এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান। আলোচনায় অংশ নেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, আইইবির সাবেক সভাপতি প্রফেসর প্রফেসর আ ন হ আখতার হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি প্রফেসর ড. এ বি এম ওবায়েদুল ইসলাম ও বিএনপির কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক রাজশাহীর মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল প্রমুখ।
ন্যাশনালিস্ট টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এ সভার আয়োজন করেন। সেমিনারে খুলনা বিভাগে ৫ জেলার বিএনপির নেতারা অংশ নেন।
/এমডিপি/ এমএনএইচ/








