ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার আবাইপুর গণহত্যা দিবস আজ (১৪ অক্টোবর)। ১৯৭১ সালের এ দিনে পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে মুখোমুখি যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষ মিলে ৪১ জন শহীদ হন।
তবে আজ অবহেলিত শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের গণকবরগুলো। ঝোঁপ আর জঙ্গলে ছেয়ে গেছে। গণকবরগুলো চিহ্নিত করতেও এখন হিমশিম খায় এলাকাবাসী। নতুন প্রজন্মের মানুষ ভুলতে বসেছে এই এলাকার মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বের কথা, রক্তাক্ত ইতিহাসের কথা।
এলাকাবাসী ও স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা জানান, ১৯৭১ সালের অক্টোবর মাসে যুদ্ধের তীব্রতা বৃদ্ধি পায়। মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাস ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা জুড়ে ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের দাপট। শৈলকুপার আবাইপুর এলাকায় ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের শক্ত ঘাঁটি। ১৩ অক্টোবর দুপুরে মুক্তিযোদ্ধারা খবর পান পাকিস্তানি বাহিনী মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার খামারপাড়া বাজারে ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে। তাদের গতি শৈলকুপা অভিমুখে। এমন খবরে ১২৫ জনের একদল মুক্তিযোদ্ধা আবাইপুরে তাদের প্রতিহত করার পরিকল্পনা নেয়। তাদের নেতৃত্বে ছিলেন এয়ারম্যান মুজিবর রহমান। এয়ারম্যান মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মনোয়ার হোসেন মালিতা ও গোলাম রইচ তিনভাগে বিভক্ত হয়ে সহযোদ্ধাদের নিয়ে বাংকার খুঁড়ে অবস্থান নেন। এ খবর পাকিস্তানি সেনাদের স্থানীয় চরেরা তাদের কাছে পৌঁছে দেয়। ১৪ অক্টোবর ভোররাতে পাক সেনা ও রাজাকাররা পেছন দিক থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থানগুলোর ওপর সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে। মুক্তিযোদ্ধারা পাল্টা জবাব দেন। আধা ঘণ্টার মত যুদ্ধ চলে। এরপর মুক্তিযোদ্ধারা পিছু হঠে। পাকসেনারা বাংকারের ভেতর গুলি ও ব্যায়োনেট চার্জ করে মুক্তিযুদ্ধাদের হত্যা করে। এ যুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাদের একজন লেফট্যানেন্ট নিহত হয়। তাদের পক্ষেও ক্ষয়ক্ষতি হয়। সকাল হলে পাকসেনা ও রাজাকাররা শৈলকুপায় চলে যায়। সঙ্গে নিয়ে যায় পাঁচজন বন্দি মুক্তিযোদ্ধাকে। তাদের শৈলকুপা ব্রিজের দক্ষিণ পাশে পিটিয়ে হত্যা করে গণকবর দেয়। পরে আবাইপুরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মুক্তিযোদ্ধাদের লাশ স্থানীয় মানুষ একত্রিত করে ইউনিয়ন পরিষদের পাশে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভেতর ও জিকে খালের পাড়ে গণকবর দেয়।
কিন্তু স্বাধীনতার ৪৫ বছর পেরিয়ে গেলেও শহীদদের গণকবরগুলো সংরক্ষণ করা হয়নি।
স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা লিয়াকত হোসেন বলেন, শহীদদের গণকবরগুলো সংরক্ষণ করা হয়নি। এখন সেখানে ঝোপঝাড়। মানুষ যেতেও ভয় পায়। দেশের জন্য যারা জীবন দিয়েছেন তাদের কবরগুলো এতো অবেহিলত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। দ্রুত এই গণকবরগুলো সংরক্ষণের দাবি জানান তিনি।
এ ব্যাপারে শৈলকুপা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মনোয়ার হোসেন মালিতা জানান, শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের গণকবরগুলোতে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হবে। বর্তমান সরকার এ ব্যাপারে একটি পরিকল্পনা নিয়েছেন। ২০১৭ সালের মধ্যেই এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
/বিটি/








