খরা ও অতিবৃষ্টির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা শীতের সবজি চাষ করে মানসিকভাবে চাঙা হয়ে উঠছেন। সবজির আবাদে তাদের মুখে হাসি ফিরেছে। ডুমুরিয়া উপজেলার আটলিয়া, মাগুরাঘোনা, খর্নিয়া ইউনিয়ানসহ পার্শ্ববর্তী উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে ২/৩ ফুট চওড়া রাস্তায় এখন নব উদ্যোমে হয়েছে শিম চাষ।
স্থানীয় শেখ রাশেদুল ইসলাম, আব্দুল জলিল, মো. ফরহাদ, আব্দুস সামাদ গাজী, আশরাফ আলী মোড়ল, ইউনুস মোড়ল, আবু হুরাইরাসহ ২০-২৫ জন কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক বছর আগেও এসব এলাকায় বাড়ির আঙিনায় ও পতিত জমিতে পরিবারের চাহিদা মেটানোর জন্য শিম চাষ হতো। অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি কম খরচে শিম চাষ লাভজনক। তাই এখন এলাকার অধিকাংশ বাড়ির আঙিনার পাশাপাশি পতিত জমি, ঘেরের আইল সবখানেই চাষাবাদ হচ্ছে শিম। বাজারে নতুন শিমের কদর বেশি। প্রতি কেজি শিম এখন ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ থেকে বারি-১ এবং বারি-২ জাতের শিমের চাষের কথা বললেও এসব এলাকায় এখন আইরেট, নলডোগ, পোটের শিম, কুলি, কাজলা, নলি এবং দেশি শিম (স্থানীয় ভাষায়) চাষ হচ্ছে বেশি।
ডুমুরিয়ার উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়নের শাশার ডাঙ্গি এলাকার কৃষক ইউনুস মোড়ল ও আবু হুরাইরা বলেন, ‘আমরা আগে ঘেরের জমিতে শুধু চিংড়ি মাছের চাষ করতাম। এখন লবণ পানির পরিমাণ কমেছে। একই ঘেরে চিংড়ির পাশাপাশি সাদা মাছ, ধান এবং আইলের ওপর শিম, বরবটি, পুঁইশাক, লাউ, কুমড়া, ঝাল, ঢেড়স চাষ করছি। ভাদ্র মাসের প্রথম থেকেই শিম উঠতে শুরু করেছে। এখন বাজারে শিমের চাহিদা আছে বেশ। আমাদের ১০ বিঘা ঘেরের পাশ দিয়ে লাগনো গাছ থেকে প্রতি সপ্তাহে শিম উঠাই ৩/৪ মণ।’
পার্শ্ববর্তী কেশবপুর উপজেলার সারুটিয়ার মো. ফরহাদ বলেন, ‘আমি ১০ কাঠা জমির ঘেরের আইলে শিম চাষ করেছি। নতুন মাটিতে শিম ভালো হইছে। সপ্তাহে ২০/২২ কেজি শিম বাজারে বিক্রি করতে পারছি। ঘেরে চিংড়ি মাছ, সাদা মাছ, আইলের উপর শাক, শিম, বরবটির চাষ করছি। ৭ বছর ধরে এ কাজ করে আসছি। এখন আর আমার অভাব নেই। আমরা শিম তুলে চুকনগর মোকামে নিয়ে বিক্রি করি।’
ডুমুরিয়া উপজেলার চুকনগর কাঁচামালের আড়ৎ কমিটির সভাপতি গাজী নজরুল ইসলাম এ বলেন, ‘এ বছর ২১ আগস্ট প্রচুর বৃষ্টি হওয়ার কারণে অধিকাংশ কৃষকের চারা নষ্ট হয়। তারপরও আগাম সবজি চাষের ফলন ভালো। কয়েক বছর ধরে এ অঞ্চলের বেশ কিছু মানুষ আগাম সবজি চাষ করছে। এর মধ্যে শিম, বেগুন, লালশাক, পুঁইশাক, বরবটি, টমেটো রয়েছে। সাধারণত আগাম সবজি চাষে পোকা-মাকড়ের আক্রমণ বেশি থাকে। তবে এখন একটু কুয়াশা পড়ছে। ফলে পোকার আক্রমণ কম। আগাম সবজি চাষ করে স্থানীয় কৃষকরা বেশ লাভবান হচ্ছেন। কারণ ভাল দাম পাওয়া যায়।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘উপজেলা কৃষি অফিসের তত্ত্বাবধায়নে ১৫টি আইটিএন স্কুলের (সমন্বিত বালাইনাশক স্কুল) মাধ্যমে ডুমুরিয়া উপজেলায় ৫ হাজার কৃষককে কীটনাশক বিহীন সবজির চাষ প্রশিক্ষণ দিয়েছি। স্থানীয় কৃষকদের নিয়ে আমাদের রয়েছে ২৪৩টি এসএফজি (স্মল ফার্মার গ্রুপ)। চুইঝাল চাষের উপর প্রশিক্ষণ দিয়ে বরাতিয়ায় এক হাজার এবং রুদাঘরায় ১০০ চুইঝালের চারা বিতরণ করেছি। ডুমুরিয়া উপজেলার কৃষকরা একসঙ্গে একাধিক সবজি বা ফসল উৎপাদন করে থাকে।’
/এসটি/








