ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা মোক্তার আহম্মেদ মৃধাকে মারধরের ঘটনায় নিজের বিন্দুমাত্র সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেছেন ঝিনাইদহ-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই।
বুধবার (০৯ নভেম্বর) বিকালে ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন।
তিনি বলেন, ‘একটি মহল আমাকে ভিক্টিমাইজ করার জন্য পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র করছে। যারা মেরেছে এবং যারা মার খেয়েছেন তারা সবাই আমার লোক। যারা মোক্তার আহম্মেদ মৃধাকে মারধর করেছেন তাদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। হামলার ভিডিও ফুটেজ আছে। হামলায় যারা জড়িত তাদের ছবি প্রকাশ পেয়েছে। কিন্তু একটি মহল ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রভাবিত করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টা করছে।’
এমপি আরও বলেন, ‘আমার সাবেক এপিএস জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এম আব্দুল হাকিম আহম্মেদকে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে আসামি করা হয়েছে শুধুমাত্র আমার ওপর দোষ চাপানোর জন্য।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টু, সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট অজিজুর রহমান, আব্দুল ওয়াহেদ জোয়ার্দ্দার প্রমুখ।
উল্লেখ্য, ১৮ অক্টোবর সন্ধ্যার পর শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে একটি ওষুধের দোকানে বসা ছিলেন মোক্তার আহমেদ মৃধা। এ সময় যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীরা রড ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা করে। তাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হাত-পা ভেঙে দেয় ও জখম করে। তার ছেলে গোলাম মুরশিদ মৃধা হামলাকারীদের হাত থেকে বাবাকে রক্ষা করতে গেলে তাকেও পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে দেয়। হামলাকারীরা চলে গেলে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে শৈলকুপা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান থেকে ঝিনাইদহ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। পিতা-পুত্র ঢাকার মোহম্মদপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
এ ব্যাপারে মোক্তার মৃধার ছেলে মাহমুদুল হাসান সুমন বাদী হয়ে ১৯ অক্টোবর শৈলকুপা থানায় ১০ জনকে আসামি করে মামলা করেন।
জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হাকিম আহম্মেদ, শৈলকুপা উপজেলা যুবলীগের সভাপতি শামীম আহমেদ মোল্লা, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শামিম জোয়ার্দ্দার আসামিদের মধ্যে রয়েছে। পুলিশ এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেফতার করে। আসামিরা বর্তমানে জামিনে আছে।
আরও পড়ুন:
ঝিনাইদহে মুক্তিযোদ্ধার ওপর হামলাকারী ওরা কারা?
/বিটি/টিএন/








