মংলা বন্দরের অদূরে বঙ্গোপসাগরে ডুবোচরে আটকা পড়া লবণ বোঝাই বিদেশি জাহাজটি দুদিনেও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। বেতার বার্তায় সাহায্য চাওয়ার খবর পেয়ে মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের পাইলট ঘটনাস্থলে পৌঁছে ডুবোচর থেকে জাহাজটি নামাতে পারেনি। বর্তমানে বিদেশি ওই জাহাজটি ডুবোচরে কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও বন্দর চ্যানেল নিরাপদ রয়েছে। একই সঙ্গে চ্যানেলে বাণিজ্যিক জাহাজ নির্বিঘ্নে যাওয়া-আসা করছে বলে জানিয়েছে মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার বিভাগ।
এদিকে জাহাজটি দ্রুত ডুবোচর থেকে সরাতে লাইটারযোগে লবণ খালাসের উদ্যেগ নেওয়া হয়েছে। আর লবণ খালাস করা শুরু হলে শঙ্কামুক্ত এবং নিরাপদে জাহাজটি ডুবোচর থেকে নামানো সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের মাস্টার কমান্ডার ওয়ালিউল্ল্যহ জানান, ‘এমভি তানভিন’ নামে এ জাহাজটি ১৮ হাজার ৭০০ মেট্রিকটন লবণ নিয়ে ভারতের কানলা বন্দর থেকে গত মঙ্গলবার মংলা বন্দরের অদূরে ফেয়ারওয়ে বয়া এলাকায় অবস্থান করছিল। পরে বন্দরের নির্দেশনা পেয়ে বুধবার ভোররাতে পশুর চ্যানেলে প্রবেশের সময় মাস্টার ভুলবশত নৌপথ হারিয়ে জাহাজটি ডুবোচরে উঠিয়ে দেয়। ফেয়ারওয়ের ১৩ ও ১৪ নম্বর বয়া এলাকার মাঝামাঝি স্থানের ডুবোচরে জাহাজের বর্তমান অবস্থা রয়েছে।
তিনি আরও জানান, সমুদ্র পথে আসা-যাওয়ার চ্যানেল থেকে লবণ বোঝাই এ জাহাজটি প্রায় এক কিলোমিটার বাইরে রয়েছে। আর মূল চ্যানেল দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ যাতায়াতের কোনও সমস্যা নেই।
বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজটি স্থানীয় শিপিং এজেন্ট কসমস শিপিং লাইন্সের খুলনাস্থ ম্যানেজার সিরাজুল ইসলাম জানান, ভিয়েতনামের পতাকাবাহী ‘এমভি তানভিন’ নামের এ জাহাজটি আটকে পড়া চর থেকে নিরাপদে সরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। আর এজন্য শ্রমিক নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান স্টিভিডরস মেসার্স গ্রিন এন্টারপাইজকে কার্যাদেশসহ লবণ খালাসের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
স্টিভিডরস কোম্পানির স্থানীয় প্রতিনিধি মো. মাহবুবুর রহমান বৃহস্পতিবার বিকালে জানান, ফেয়ারওয়ে বয়া এলাকায় ডুবোচরে আটকে পড়া জাহাজের লবণ খালাসের জন্য রাতের বেলায় শ্রমিক নিয়োগ করা হয়েছে। রাতেই প্রয়োজনীয় শ্রমিকসহ বেশ কয়েকটি লাইটার ঘটনাস্থলে গিয়ে পুরোদমে খালাস প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবে।
বিদেশি এ জাহাজটিতে মাস্টারসহ ২২ জন বিদেশি নাবিক রয়েছে বলে জানা গেছে। তারা সবাই নিরাপদে রয়েছেন। ডুবোচরে আটকে থাকা জাহাজ ও নাবিকদের নিয়মিত খোঁজ-খবর রাখছে বলে জানিয়েছেন মংলা বন্দরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।
/এআর/








