নদীতে সবজি, মাছ ও হাঁসের ভাসমান খামার করে ভাগ্য ফেরানোর চেষ্টা করছেন পাবনার চলনবিল এলাকার হতদরিদ্র নারীরা। মাত্র এক বছরের মধ্যেই এলাকাবাসীর মাঝে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এই চাষ পদ্ধতি।
পাবনা জেলার ভাঙ্গুড়া উপজেলার নৌবাড়িয়া নতুনপাড়া গ্রামে এই ভাসমান খামার করে দরিদ্র নারীদের স্বাবলম্বী করতে সহায়তা করছে একটি বে-সরকারি উন্নয়ন সংস্থা।
এই ভাসমান খামারগুলো হচ্ছে একের ভিতরে তিন। পানিতে মাছ, হাঁস আর সবজির চাষ হচ্ছে পাবনার প্রত্যন্ত অঞ্চল ভাঙ্গুড়া উপজেলার নৌ-বাড়িয়া নতুনপাড়া গ্রামের গুমানী নদীতে। ব্যতিক্রমধর্মী এই চাষ পদ্ধতি এলাকায় ভাসমান খামার নামে পরিচিত। এই পদ্ধতিতে নদীর তীরে পানির ওপর তৈরি করা হয় ড্রামের ভেলা। সেই ভেলার ওপর একপাশে নির্মিত ঘরে হাঁস পালন করা হয়, অন্য পাশে পানির ওপরে তৈরি মাচায় সবজি ও নিচে চলে মাছ চাষ।
প্লাস্টিকের বালতির মধ্যে মাচা তৈরি করে শক্ত খুঁটির সঙ্গে বেঁধে তাতে সবজির চারা রোপণ করা হয়। হাঁস সারাদিন পানিতে থাকার পর রাতে ভাসমান খামারের ঘরে ডিম দেয়। হাঁসের বিষ্ঠা পরিণত হয় মাছের খাদ্যে। মাত্র এক বছর আগে শুরু হওয়া এই ভাসমান খামার করে স্বচ্ছলতার মুখ দেখছেন এলাকার হতদরিদ্র নারীরা।
এই খামার করে নিজেদের ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছেন চর-ভাঙ্গুড়া পূর্বপাড়া গ্রামের দুলাল খাঁর স্ত্রী হোসনে আরা, মহির উদ্দিনের স্ত্রী হাফিজা খাতুন, আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী সালেহা খাতুন, লাবলু মিয়ার স্ত্রী আফরোজা খাতুন ও জাকির হোসেনের স্ত্রী রেহেনা খাতুন।
তারা জানান, খামারের মাচায় শসা, করলা, কুমড়া, পুঁইশাকসহ বিভিন্ন সবজির ভালো ফলন হয়। এই সবজি অর্গানিক ও সুস্বাদু হওয়ায় বাজারে এর চাহিদা অনেক, দামও বেশি পাওয়া যায়। ভাসমান খামার করে তারা আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার পাশাপাশি নিজেদের পুষ্টির চাহিদাও মেটান।
তারা আরও জানান, গত দুই বছরে তাদের সংসারের চিত্র বদলে গেছে। ছেলেমেয়েদের স্কুলে পড়াতে পারছেন। তাদের দেখাদেখি গ্রামের অন্য নারীরাও এই খামার করতে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন বলে জানান তারা।
পাঁচজন নারী মিলে একটি ভাসমান খামার করতে প্রথমে তাদের খরচ হয়েছে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। পরবর্তী বছরগুলোতে তাদের আর খরচ করতে হয়নি। এ ছাড়া মাছ, হাঁসের ডিম ও সবজি বিক্রি করে এক বছরে ওই পাঁচ জনের আয় হয় এক লাখ টাকারও বেশি।
কৃষি সম্প্রাসারণ অধিদফতর জানান, কৃষক-কৃষাণিদের এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রশিক্ষিত করে তোলা হচ্ছে। তারা ভাসমান খামার করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। এই ভাসমান খামার কৃষক-কৃষাণির মধ্যে ছড়িয়ে দিতে আরও ব্যাপকভাবে কাজ করছে কৃষি বিভাগ।
পাবনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ বিভূতি ভূষণ সরকার জানান, নদীর তীর ব্যবহার করে এমন ভাসমান খামার জেলার বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে দিতে পারলে দারিদ্র্যতা দূর করা সম্ভব হবে। পানি নিষ্কাশনের কোনও ব্যবস্থা না থাকায় চলনবিল অঞ্চলের অনেক এলাকায় বছরের ছয় মাস পানি কবলিত থাকে।
/জেবি/
আরও পড়তে পারেন : আমার স্বামীকে তো আর ফিরে পাবো না, দ্রুত বিচার দেখতে চাই’








