খুলনার ৯ বছরের শিশু ফারহান কাইফ অহন ভুগছে মরণব্যাধি বায়োসাইটোপেনিয়া রোগে। পাশের বাড়ির ছেলে মেহেদী হাসান মিরাজ ক্রিকেট খেলে যখন বিশ্ব মাতাচ্ছেন তখন এই দুরারোগ্য ব্যাধি বাসা বেঁধেছে তার শরীরে। শিশুটি নিজে চিকিৎসার সহায়তা চেয়ে, বাঁচার আকুতি নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিলে তা এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে।
ফেসবুকে অহন লিখেছে, ‘আমি অহন, আমি বাঁচতে চাই’ (I’m Ahon, I want to survive)।
জটিল রোগ বায়োসাইটোপেনিয়ার সঙ্গে লড়াই করে যাচ্ছে ৯ বছরের শিশু অহন। প্রতি মাসে তার দেহে ৩ থেকে ৪ বার রক্ত দিতে হচ্ছে। অহন অন্য শিশুদের মতো সেও স্কুলে যেতে চায়, খেলতে চায় মাঠে গিয়ে। বড় হয়ে সে হতে চায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার।
সন্তানের দুরন্তপনার কারণে যে বাবা-মাকে তটস্থ থাকার কথা, সেই বাবা-মা আজ ছেলের সুস্থ থাকা নিয়ে উদ্বিগ্ন। অহনের এখন প্রয়োজন অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন (বোন মেরো ট্রান্সপ্লান্ট)। ভারতের বেঙ্গালুরুর হাসপাতালের চিকিৎসকদের পরামর্শ রয়েছে ১০ বছরে পা দেওয়ার আগেই অহনের এ কাজটি সম্পন্ন করার। এ জন্য লাগবে ৩৫ থেকে ৪০ লাখ টাকা। আগামী ৫ আগস্ট অহন ১০ বছরে পা দেবে। এ অবস্থায় উদ্বিগ্ন রয়েছেন তার বাবা-মা। কামনা করছেন সহযোগিতা।
গত বছরের আগস্ট থেকে অহনের চিকিৎসার জন্য সহযোগিতা চাওয়া হচ্ছে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত অহনের পরিবারের হাতে আসে ৬ লাখ টাকা। ওই টাকায় অহনকে ৪র্থ বারের মতো ভারতের বেঙ্গালুরুতে নিয়ে চিকিৎসা করানো হয়। পরে চিকিৎসকরা অহনের জন্য অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনের কথা বলেন। এরপর থেকে এ পর্যন্ত অহনের চিকিৎসার জন্য ৬ লাখ টাকা পেয়েছেন তার বাবা-মা। কিন্তু তা অহনের চিকিৎসার জন্য যথেষ্ট নয়।
অহনের মা শিরপা পারভিন জানান, জন্মের পরই অহনের দেহে এই মরণব্যাধি রোগ ধরা পড়ে। তার স্বামী মোস্তাক হোসাইনের বাড়ি ও কৃষিজমি সব বিক্রি করে ৪ বার ভারতে গিয়ে ছেলের চিকিৎসা করিয়েছেন। দৌলতপুরের দেয়ানায় ছিল তাদের ঠিকানা। বর্তমানে খারিশপুরের ১০৮ বিআইডিসি রোডে বোন আছমা রহমানের বাসায় অবস্থান করছেন। তার স্বামী রূপসার একটি তেলের পাম্পে সেলসম্যান হিসেবে কাজ করছেন। আগে ছিলেন মৎস্য ব্যবসায়ী। একমাত্র ছেলের চিকিৎসায় সব হারিয়ে এখন সমাজের বিত্তবানদের অর্থের ওপর নির্ভর হতে হচ্ছে তাদের। প্রথম দফায় পাওয়া ৬ লাখ টাকায় গত জানুয়ারি মাসে ভারতে নিয়ে অহনের চিকিৎসা করানো হয়েছে। ওই সময়ই বলে দেওয়া হয়েছে, পরবর্তী চিকিৎসা হচ্ছে বোন মেরো ট্রান্সপ্লান্ট করা। সেভাবেই প্রস্তুতি নিয়ে যেতে বলা হয়েছে। অহনকে স্কুলে পাঠানো যায় না, কারণ সে বসে থাকতে পারে না। তার হাড়ে প্রচন্ড ব্যথা হয়। তাই বাসায় গৃহশিক্ষক রেখে তাকে পড়ানো হচ্ছে। বর্তমানে অহন দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ছে। স্কুলে পরীক্ষা চলাকালে ওই প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করে এনে বাসায় বসেই গৃহশিক্ষক অহনের পরীক্ষা নেন।
মারণব্যাধীতে আক্রান্ত অহন জানায়, রক্ত নেওয়ায় দেরি হলে শরীর দুর্বল লাগে। শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, বুকে ব্যথা হয়, মাইগ্রেন সমস্যা বেড়ে যায়, চোখের সমস্যা প্রকট হয়ে ওঠে।
অহন আরও জানায়, পাশের ছেলেরা বল নিয়ে মাঠে খেলতে যায় কিন্তু আমি পারি না। খেলতে ইচ্ছা করে। ফেসবুক বন্ধুদের কাছ থেকে গত বছরের শেষে একটি কম্পিউটার ও একটি মোবাইল উপহার পায় সে। ঘরে এখন এগুলোই খেলার সঙ্গি।
কম্পিউটারে কাজ করে তিনটি সফটওয়্যার বানিয়েছে অহন। যা এন্ড্রয়েড মোবাইলে ব্যবহার করা যাচ্ছে। তার তৈরি সফটওয়্যার হচ্ছে অহনস ব্রাউজার, শুটিং গেম-১২০০ ও ফটোসপ-২।
অহন জানায়, কোনও সমস্যা দেখা দিলে সে বেঙ্গালুরুর চিকিৎসকের সঙ্গে ফেসবুক ও স্কাইপের মাধ্যমে যোগাযোগ করে।
অহন সুস্থ থাকার পাশাপাশি স্কুলে যেতে চায়। ভবিষ্যতে সে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হতে আগ্রহী। এখন ইন্টারনেটে সফটওয়্যারভিত্তিক বিভিন্ন সাইডের সহযোগিতায় কোডিং প্রোগ্রাম শিখছে।
অহনকে যাহায্য করতে অগ্রনী বাংক লিমিটেড গোয়ালপাড়া শাখা খুলনার অ্যাকাউন্ট নম্বর শিরপা পারভিন-০২০০০০৩২৪৪০৫৪ এবং প্রাইম ব্যাংক দৌলতপুর শাখা খুলনার হিসাব নম্বর মো. মোস্তাক হোসাইন বন্দ-২১৩২১০৬০০০৭১২৪ এই অ্যাকাউন্ট নাম্বারে টাকা পাঠানো যাবে। এছাড়া বিকাশ নম্বর হচ্ছে- ০১৯৫৫ ৮০৩৭২৮, ০১৭৯৭ ১৭০৩০৯, ০১৯৪৯ ২৩৬৯৩৭ ও ০১৯১৫ ৪২৫৫৯০। ডাচবাংলা মোবাইল ব্যাংকিং নম্বর-০১৭১৭ ৭১১৪৩৭২।
/এআর/








