পদ্মা সেতু, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র ও মংলা-খুলনা রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পকে সামনে রেখে মংলা বন্দরের উন্নয়নে মহাপরিকল্পনা নিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। বন্দর উন্নয়নে প্রায় ৩ হাজার ৫৬৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ৯টি বড় প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। এসব প্রকল্প বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হলে বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পদ্মা সেতু, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র ও মংলা-খুলনা রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পের কাজ ২০১৮ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া মংলায় অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কাজ চলছে। পদ্মাসেতু নির্মাণের পর ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের তুলনায় মংলার দূরত্ব কম হবে। তখন মংলা বন্দরের ওপর চাপ বাড়বে। বর্তমান সুবিধা দিয়ে তা মোকাবেলা করা বন্দর কর্তৃপক্ষের জন্য কঠিন হবে।
সূত্রটি আরও জানায়, প্রায় ৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক যন্ত্রপাতিসহ কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণের জন্য একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। ২৪৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হবে কন্টেইনার ইয়ার্ড। এছাড়া বন্দরে আধুনিক যন্ত্রপাতিসহ কন্টেইনার ডেলিভারি ইয়ার্ড নির্মাণের জন্য একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৫৪ কোটি টাকা।
বন্দরের ৩ ও ৪নং জেটি অর্ধনির্মিত অবস্থায় পড়ে আছে। পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) অধীনে এই দুটি জেটি নির্মাণ করা হবে। এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৪২৫ কোটি টাকা। বিদেশ থেকে আমদানি করা রিকন্ডিশন গাড়ি বন্দরের জেটি এলাকায় এলামেলোভাবে রাখা হয়। বর্তমানে এভাবে প্রায় চার হাজার গাড়ি রাখা আছে। এ অবস্থায় একসঙ্গে ১০ হাজার গাড়ি রাখার জন্য ৭৯৬ কোটি টাকা ব্যয়ে মাল্টিস্টোরিড কার ইয়ার্ড নির্মাণ করা হবে।
দিগরাজ এলাকা থেকে মংলা পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ বাইবাস সড়ক ও ৪ লেনে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই কাজে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৭০ কোটি ৮০ লাখ টাকা।
মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার কমান্ডার ওয়লিউল্লাহ জানান, ‘বন্দরের আউটারবার এলাকায় ড্রেজিংয়ের জন্য একটি প্রকল্প একনেকে পাঠানো হয়েছে। এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ২৬১ কোটি টাকা। এছাড়া ড্রেজিংয়ের জন্য ১৭০ কোটি ব্যয়ে গত অর্থ বছরে আরেকটি প্রকল্প নেওয়া হয়। প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে রয়েছে।’
এদিকে বন্দরের আউটার বার এলাকাসহ পশুর নদের চ্যানেলে বিভিন্ন সময়ে ডুবে যাওয়া ৫টি বিদেশি জাহাজ উত্তোলনেরও পরিকল্পনা নিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এই প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪০ কোটি টাকা।
মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমোডর ফারুক হাসান বলেন, ‘কন্টেইনার টার্মিনাল, কন্টেইনার ডেলিভেরি ইয়ার্ড, ৪ লেন সড়ক, মাল্টিস্টোরিড কার ইয়ার্ড ও ডুবন্ত জাহাজ বা রেক উত্তোলন প্রকল্পগুলোর জন্য চীন সরকারের কাছ থেকে আমরা একটি প্রস্তাব পেয়েছি। চীনের সিনোমাচ নামে একটি কোম্পানির সঙ্গে আমরা ইতোমধ্যে এমওইউ স্বাক্ষর করেছি। তারা এখন কারিগরি মূল্যায়ন করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘২০২১ সালে এক হাজার জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। সে অনুযায়ী বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলছে।’
মংলা বন্দর ব্যাবহারকারী সমন্বয় কমিটির মহাসচিব মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘শুধু প্রকল্প গ্রহণই যথেষ্ট নয়, নির্ধারিত সময়ে তা বাস্তবায়ন করতে হবে।’
/এআর/এফএস/
আরও পড়ুন-








