ঝিনাইদহ সদর উপজেলার চুয়াডাঙ্গা গ্রামে দুই জঙ্গি আস্তানায় র্যাবের অভিযান স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার (১৭ মে) আবার অভিযান শুরু করা হবে। ঢাকা থেকে আসা বোম্ব ডিসপোজাল টিম বুধবারের অভিযানে অংশ নেবে। তবে আজ মঙ্গলবার রাতে ঘটনাস্থল ঘেরাও করে রাখা হবে। আশপাশের এলাকায় ১৪৪ ধারাও বলবৎ থাকবে। র্যাবের ঝিনাইদহ ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর মুনির আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে বিকালে দুটি বাড়ির একটির কাছে বোমা ও বিস্ফোরক তৈরির বেশকিছু উপাদান পাওয়া গেছে। বাড়ির পাশের ৪টি স্পট থেকে ২টি সুইসাইডাল ভেস্ট, ১৮৬টি পিভিসি স্টিক সুইচ, ৩০টি বোমা তৈরির ইলেকট্রিক সার্কিট, ২০টি ডিনামাইট স্টিক, ১৮টি নিউজেল, ৪ ড্রাম রাসায়নিক দ্রব্য উদ্ধার করে র্যাবের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট। বিকাল ৬টা পর্যন্ত ৪টি স্পটে এ অভিযান চলে। সেলিমের বাড়ির পেছনের বাগান থেকে এগুলো উদ্ধার করা হয়েছে।
অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাড়ি দুটির মালিক সেলিম (৩৫) ও প্রান্ত'র (১৭) কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই এ অভিযান চলছে। সেলিম ও প্রান্ত সম্পর্কে চাচাতো ভাই। সেলিম মহেশপুর উপজেলার বজরাপুর গ্রামের জঙ্গি আস্তানায় অভিযানে নিহত জঙ্গি তুহিনের ভাই।
জঙ্গি আস্তানায় প্রবেশের আগে র্যাব-৬ এর সিও খন্দকার রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, সোমবার রাত ১টার দিকে র্যাবের একটি দল টহল দেওয়ার সময় সেলিম ও প্রান্তকে আটক করে। তারা নব্য জেএমবির সদস্য। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা তিনটি স্থানের কথা বলে। সেই তিন জায়গার মধ্যে একটির অভিযান শেষ হয়েছে। ওই আস্তানা থেকে দুটি সুইসাইডাল ভেস্ট উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি দুই আস্তানায় অভিযান চলছে। তিনটি বাড়ি পাশাপাশি বলেও তিনি জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার সকাল ৭টা থেকে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে বাড়ি দুটি ঘিরে রাখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে বেলা ১১টার দিকে সেখানে অভিযান শুরু করে র্যাব। খুলনা থেকে আসা বোম্ব ডিসপোজাল টিম এ অভিযানে অংশ নিচ্ছে।
গত ৭ মে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় বজরাপুর এলাকায় জঙ্গি আস্তানায় ‘অপারেশন সাটল স্প্লিট’ (Subtle Split) চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ওই অভিযানে দুই জঙ্গি নিহত হয়। একইদিন বজরাপুরের পাশাপাশি সদর উপজেলার লেবুতলায়ও একটি পরিত্যক্ত জঙ্গি আস্তানা থেকে কিছু বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়।
এর আগে ২২ এপ্রিল ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পোড়াহাটি গ্রামের ঠনঠনেপাড়ায় জঙ্গি আস্তানায় সিটিটিসি ইউনিটের সদস্যরা ‘অপারেশন সাউথ প’ চালায়। ওই আস্তানা থেকে বিস্ফোরক তৈরি রাসায়নিক ভর্তি ২০টি ড্রাম, একটি সেভেন পয়েন্ট সিক্স বোরের পিস্তল, একটা ম্যাগাজিন, সাত রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। পাঁচটি বোমা নিষ্ক্রিয় করা হয়। বাড়ির ভেতর থেকে ১৫টি জিহাদি বইও উদ্ধার করা হয়েছে। সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি।
/এফএস/
আরও পড়ুন-
হলি আর্টিজানের মতো ঝুঁকি এখনও রয়েছে: ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত








