সাতক্ষীরা শ্যামনগর উপজেলায় বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের পূর্ব দূর্গাবাটি খোলপেটুয়া নদীর বেড়িবাঁধে ফের বড় আকারে ভাঙন দেখা দিয়েছে। যেকোনও মুহূর্তে ওই এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমানে ভাঙনকৃত এলাকায় রিং বাঁধের কাজ চলছে।
বুড়িগোয়ালিনী ইউপি চেয়ারম্যান ভবতোষ কুমার মণ্ডল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পূর্ব দূর্গাবাটি গ্রামে গাজী আনিছুজ্জামানের চিংড়ি ঘের থেকে হাজী মুজিবর রহমানের চিংড়ি ঘের পর্যন্ত প্রায় ১২ শ’ ফিট বেড়িবাঁধ মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ঘূর্ণিঝড় মোরার সময়ে খোলপেটুয়া নদীতে জোয়ারের অতিরিক্ত পানির চাপে বাঁধ উপচে পানি ভেতরে ঢোকে। ওই এলাকায় ৪০ দিনের কর্মসৃজন প্রকল্পের মাধ্যমে বাঁধ সংস্কারের কাজ চলছে। কিন্তু যে রিং বাঁধটি দেওয়া হচ্ছে- সেটি মজবুত নয়। যেকোনও মুহূর্তে জোয়ারের পানির চাপে ভেঙে যেতে পারে।’
ইউপি চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘দূর্গাবাটির বাঁধ ভেঙে গেলে পশ্চিমদূর্গাবাটি, পোড়াকাটলা, পশ্চিম পোড়াকাটলা, টুংগীপাড়া, আড়পাঙ্গাশিয়া, বুড়িগোয়ালিনী, কলবাড়ী ও আটুলিয়া ইউপির বীরসিংহ, বড়কুপট, ছোটকুপটসহ অন্যান্য এলাকা প্লাবিত হতে পারে। এলাকার কয়েক হাজার চিংড়ি ঘের, পুকুর পানিতে তলিয়ে যাবে ও অন্যান্য সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি হবে।
মুন্সিগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মোড়ল বলেন, উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নের কিছু স্থানে বেড়িবাঁধের অবস্থা ভালো নেই।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. জাফর রানা বলেন, ‘পদ্মপুকুর ইউনিয়নের খুটিকাটা, কামালকাটি, চরচণ্ডিপুর, বন্যতলা নামকস্থানে প্রায় ৩ হাজার ফিট, কাশিমাড়ী ইউপির ঝাঁপালি নামক স্থানে ৩৫০ ফিট, পূর্ব কৈখালীতে ৩০০ ফিট বেড়িবাঁধের অবস্থা ভালো নয়। বাঁধগুলো সংস্কারে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছে।’
নির্বাহী অফিসার মো. কামরুজজামান বলেন, ‘এটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায়। তারপরও আমরা মেরামতের কাজ করছি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। তারা এই এলাকা পরিদর্শন করেছেন।’
সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বিএম আব্দুল মোমিন বলেন, ‘বাঁধ এলাকা পরিদর্শন করেছি। ভাঙন ঠেকাতে প্রাথমিকভাবে বালুর বস্তা দেওয়া হয়েছে এবং স্থায়ীভাবে মেরামতের জন্য খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কাছে আবেদন করা হয়েছে।’
/এনআই/এআর/








