খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আব্দুস সামাদ বলেছেন, ‘দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে জলাবদ্ধতা নিরসণে নদীতে জোয়ার-ভাটা দরকার। আর জোয়ার ভাটা চালু রাখতে হলে টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট (টিআরএম/জোয়ারাধারা) পদ্ধতির বিকল্প নেই। এছাড়া যে সব অসাধু মানুষরা নদী দখল করে রেখেছে তাদের উচ্ছেদ করতে হবে। সাতক্ষীরার প্রাণ সায়ের খালের পাশে যতো অবৈধ স্থাপনা রয়েছে সব উচ্ছেদ করে খালের আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে।’
মঙ্গলবার (৬ জুন) সকালে খুলনার হোটেল সিটি ইনের ব্রিজ হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জলাবন্ধতা জনিত পরিবেশ ও প্রতিবেশের বিপর্যয়ের প্রেক্ষিতে সরকার গৃহীত পানি ব্যবস্থপনা প্রকল্পে উদ্ভুত সমস্যা সমাধানে জনগণের প্রস্তবনা শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
খুলনা বিভাগীয় কমিশনার বলেন, ‘বড় নদীগুলো খনন করার পাশাপাশি ছোট ছোট নদীগুলেও খনন করতে হবে। টিআরএম দ্বারা ক্ষতিগ্রস্তদের যতো সম্ভব টাকা পরিশোধ করতে হবে। এছাড়া এই অঞ্চলের মানুষের সুপেয় পানির অভাব দূর করতে বেশি বেশি পুকুর খনন করতে হবে।’
সভায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসণে আলাদা একটি সংস্থা বা বোর্ড গঠন করার দাবি করেন অনেক বক্তা।
এই দাবির প্রেক্ষিতে বিভাগীয় কমিশনার আরও বলেন, ‘বোর্ড বা সংস্থা গঠন করলে তারা বলবে আমাদের কোনও বাজেট নেই, টাকা নেই, লোক বল নেই। যেমন নদী রক্ষা কমটি রয়েছে তাদের কোনও কার্যক্রম নেই। এদেশে সংস্থায় সংস্থায় ভরে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ৮০ বছর আগের প্রতিষ্ঠান তাদের সঙ্গে জেলা প্রশাসন কাজ করছে। তাদের আড়াইশ’ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তারা সহজেই এই কাজ করতে পারবে, আলাদা করে কোনও বোর্ড গঠনের দরকা নেই। তবে সরকারি-বেসরকারি সংস্থা মিলে সমন্বয় পরিষদ হতে পারে।’
উত্তরণ ও পানি কমিটি আয়োজিত মতবিনিময় সভায় উত্তরণের পরিচালক শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা প্রশাসক আমিন উল আহসান, পানি উন্নয়ন বোর্ড দক্ষিণ-পাশ্চিমাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী একেএম ওয়াহেদ উদ্দিন চৌধুরী, পানি উন্নয়ন বোর্ড যশোর সার্কেলের তত্ত্বধায়ক প্রকৌশলী জুলফিকার হাওলাদারসহ আরও অনেকে।
/এআর/








