কুষ্টিয়ায় বেড়েছে পাটের চাষ

কুদরতে খোদা সবুজ, কুষ্টিয়া
৩০ জুন ২০১৭, ১৪:৫৮আপডেট : ৩০ জুন ২০১৭, ১৪:৫৮

কুষ্টিয়ায় বেড়েছে পাটের চাষ পাটের দাম ভালো পাওয়ায় এবং পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার নিশ্চিত করায় কুষ্টিয়ায় পাট চাষের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন কৃষকরা।

ভালো মানের পাট উৎপাদনের লক্ষ্যে কুষ্টিয়া সদর, মিরপুর, ভেড়ামারা, দৌলতপুর, খোকসা ও কুমারখালীর চাষিরা এখন পাটের পরিচর্যায় ব্যস্ত। গত বছরের তুলনায় এ বছর পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রাও বেশি। তবে চাষিদের অভিযোগ, তাদের থেকে ব্যবসায়ীরা বেশি লাভবান হয়। এজন্য সরকারিভাবে পাট কেনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর কুষ্টিয়ায় পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার ৯৭৫ একর জমিতে। এর মধ্যে কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় ৬ হাজার ৪৪০ একর, মিরপুর উপজেলায় ২১ হাজার ৭৪০ একর, ভেড়ামারা উপজেলায় ১০ হাজার ৮৭০ একর, দৌলতপুর উপজেলায় ৪১ হাজার  ৯৯৫ একর, কুমারখালী  উপজেলায় ১৩ হাজার ৩৪০ একর এবং খোকসা  উপজেলায় ৯ হাজার ৩৯০ একর জমিতে। গত বছর জেলায় পাট চাষ হয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার ৭৬৪ একর জমিতে। ২০১৫ সালে ৯১ হাজার ২৯৪ একর, ২০১৪ সালে ৮৭ হাজার ২৬৫ একর জমিতে পাটের চাষ হয়েছিল। 

মিরপুর উপজেলার পাট চাষি রিয়াজ আলী জানান, গত বছর ১ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছিলাম। বেশ ভালো দাম পাওয়ায় খরচা বাদ দিয়ে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা লাভ হয়েছিল। তাই এবার ৩ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি। এবার আবহাওয়া পাট চাষের জন্য বেশ ভালো।

একই এলাকার পাট চাষি সেকেন আলী জানান, বাজারে পাটের দাম ভালো এ জন্য আমি ৪ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি। আশা করছি বেশ ভালো লাভ হবে।

কুষ্টিয়ায় বেড়েছে পাটের চাষ পাট ক্ষেতে কাজ করা শ্রমিক ফরজ আলী জানান, পাট নিড়ানি ও ধান কাটার সময় একসঙ্গে হওয়ায় কাজ বেশি, শ্রমিক কম। জনপ্রতি মজুরি ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, যা আগে ২০০ টাকা ছিল। এখন পাটের জন্য কাজও বেশ ভালো।

জেলার সুলতানপুর এলাকার পাট চাষি আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, ধান চাষাবাদে অনেক সার ও কীটনাশক দিতে হয়। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়। কিন্তু সে অনুযায়ী দাম পাওয়া যায় না। সে কারণে অধিকাংশ জমিতে পাট চাষ করেছি। পাট চাষাবাদে খরচ অনেক কম। বর্তমানে পাটের বাজার অনেক ভালো।

ফুলবাড়িয়া গ্রামের পাট চাষি খাইরুল হোসেন বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং ধানের চেয়ে উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় সব জমিতেই পাটের চাষ করেছি। পাটের ফলনও ভালো হয়েছে। পাট কাটা শুরু করেছি। এখন দাম ভালো পেলেই খুশি।

কৃষকরা জানান, চৈত্রের শেষ ভাগে পাটের মৌসুম শুরু হয়। বৈশাখে পুরোদমে পাটের আবাদ হয়। আষাঢ় ও শ্রাবণ মাসে জমি থেকে পাট কর্তন করা হয়। এ সময় বৃষ্টি বেশি হলে পাট জাগ দেওয়া সহজ হয়। এতে ভালো পাট পাওয়া যায়। তবে কোনও কারণে পানির অভাব দেখা দিলে পাট উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

পাট অধিদফতর বলছে, গতবার পাটের ফলন যেমন বেশি হয়, তেমনি দামও ভালো পেয়েছেন কৃষকেরা। ফলে পাটচাষিরা বেশ লাভবান হয়েছেন। এবারও তারা লাভের আশা করছেন। কারণ, সরকার ধান, চাল, গম, ভুট্টা, চিনি ও সার ছয়টি পণ্য মোড়কিকরণে পাটের ব্যাগ ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছে। ফলে বাজারে এখন পাটজাত পণ্যের ব্যাপক চাহিদা।

কুষ্টিয়ার মুখ্য পাট পরিদর্শক সোহরাব উদ্দিন বিশ্বাস জানান, গেল বছর কৃষক পাটের দাম ভালো পাওয়ায় এবার পাট চাষ বেশি করছে। সেই সঙ্গে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার নিশ্চিতে ২০১০ সালের আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে কুষ্টিয়ায় পাটের চাহিদা বেড়েছে। তবে কৃষক যাতে ন্যায্য মূল্যে পাট বিক্রি করতে পারে এ জন্য সরকার খোকসা উপজেলায় একটি পাট বিক্রয় কেন্দ্র (বিজেএমসি) স্থাপন করেছেন।

/বিএল/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম