আজ ১৬ জুলাই সাংবাদিক শামছুর রহমানের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০০০ সালের এই দিন সন্ধ্যার পর যশোর শহরের কেন্দ্রস্থল দড়াটানায় নিজ অফিসে (দৈনিক জনকণ্ঠ) কর্মরত অবস্থায় আততায়ীর গুলিতে নিহত হন তিনি। ঘটনার পরদিন স্ত্রী সেলিনা আক্তার লাকী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন।
কিন্তু ১৭ বছরেও এ হত্যাকাণ্ডের বিচার শুরু না হওয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছেন পরিবারসহ সহযোদ্ধা সাংবাদিকরা। অবিলম্বে গ্রহণযোগ্য পুনঃতদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন তারা।
সূত্র জানায়, ২০০১ সালের ২০ মে সিআইডির তৎকালীন এএসপি দুলালউদ্দিন আকন্দ ১৬ জনকে আসামি করে আদালতে ওই মামলার চার্জশিট দাখিল করেন। আসামিরা হলো যশোরের সেলিম ওরফে পাগলা সেলিম, জহির বাদশা, জাহাঙ্গীর, সেলিম ওরফে খচ্চর সেলিম, মিজানুর রহমান, রাসেল, আনারুল, ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরের নাসির উদ্দিন কালু, খুলনার সন্ত্রাসী হিরক, লিটু, দৈনিক ইনকিলাবের বিশেষ প্রতিনিধি মিজানুর রহমান তোতা, যশোর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ফকির শওকত, সাংবাদিক ও গবেষক বেনজীন খান, সাংবাদিক নোভা খন্দকার ও মিলন রহমান।
পরবর্তীতে মামলার বর্ধিত তদন্তে দৈনিক ইত্তেফাকের সিনিয়র রিপোর্টার ফারাজী আজমল হোসেনকে এ মামলায় অভিযুক্ত করা হয়। আসামিদের মধ্যে খুলনার লিটু ক্রসফায়ারে, আনারুল সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত হয়। নাসিরউদ্দিন কালু হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। হিরক পলাতক রয়েছে। এছাড়া অন্যরা উচ্চ আদালত থেকে জামিনে রয়েছেন।
২০০৫ সালের আগস্ট মাসে মামলাটি যশোর আদালত থেকে খুলনার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর হয়। কিন্তু মামলার বাদী ও কয়েকজন আসামি ওই আদালতে মামলার কার্যক্রম স্থগিত করতে হাইকোর্টে আবেদন করেন। হাইকোর্ট ‘মামলাটি কেন যশোর আদালতে নেওয়া হবে না’- স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এ ব্যাপারে ব্যাখ্যা দিতে বলেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আজও সেই ব্যাখ্যা দেয়নি।
২০০৫ সালের আগস্ট মাসে খুলনার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আব্দুস সামাদ হাইকোর্টের নির্দেশে মামলাটির কার্যক্রম স্থগিত করে দেন। সেই থেকে মামলাটি স্থগিত অবস্থাতেই আছে।
নিহত সাংবাদিক শামছুর রহমানের ভাই দৈনিক জনকণ্ঠের স্টাফ রিপোর্টার যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি সাজেদ রহমান বলেন, সিআইডি গোঁজামিল দিয়ে চার্জশিট দেওয়াতেই প্রকৃত আসামিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে গেছে।
তিনি বলেন, যশোরের জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে একাধিকবার দেওয়া স্মারকলিপিতে জানিয়েছি- মামলাটি পুনঃতদন্ত করে বিচারের আওতায় আনার। কিন্তু গত ১২ বছর ধরে সেটি অকার্যকর অবস্থায় রয়েছে; আর আমরা বিচার চেয়ে আসছি।
প্রেসক্লাব যশোরের সম্পাদক তৌহিদুর রহমান বলেন, দুটি বিতর্কিত চার্জশিটের মাধ্যমে শামছুর রহমান হত্যা মামলাকে নিঃশেষ করার চেষ্টা করা হয়েছে। আমরা চাই, গ্রহণযোগ্য তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত খুনিদের বিচারের মুখোমুখি করা হোক।
যশোর প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন বলেন, মামলায় সাংবাদিকদের জড়িয়ে চার্জশিট দেওয়ার কারণেই তা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে। তিনিও নতুন করে তদন্তের মাধ্যমে এই মামলা পুনরুজ্জীবিত করার আহ্বান জানান।
পাবলিক প্রসিকিউটর রফিকুল ইসলাম পিটু বলেন, কয়েক বছর ধরে মামলাটি স্থবির হয়ে আছে। পরবর্তী কার্যক্রম শুরুর জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস যদি গুরুত্ব সহকারে দেখে, তাহলে যে রিট পিটিশন রয়েছে তা দ্রুত ভ্যাকেট হবে এবং মামলাটি চালু হবে।
এদিকে, প্রেসক্লাব যশোর, সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরসহ সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠন রবিবার সকালে মরহুমের যশোর কারবালাস্থ সমাধিতে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করে। এরপর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে মিলাদ ও আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়। এর আগে সাংবাদিকরা কালোব্যাজ ধারণ ও শোকর্যালি করেন। এছাড়া জেলা প্রশাসক বরাবর একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
/বিএল/








