বন বিভাগের দাবি, সুন্দরবনে বাঘ বাড়ছে

হেদায়েৎ হোসেন, খুলনা
২৯ জুলাই ২০১৭, ১৪:০৫আপডেট : ২৯ জুলাই ২০১৭, ২০:০৭

ফাইল ছবি বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ফলে পৃথিবীর বৃহৎ ম্যানগ্রোভ সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দাবি করেছে বন বিভাগ।

সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘২০১৫ সালের পরিসংখ্যানে সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশে বাঘের সংখ্যা ছিল ১০৬টি। বনবিভাগসহ প্রশাসনের নজরদারিতে গত দুই বছরে সুন্দরবনে কোনও বাঘ হত্যা বা শিকারের ঘটনা ঘটেনি। সুন্দরবনে টহলকালে বাঘ ও বাঘের বাচ্চা ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। তাতে প্রমাণ হয় বাঘের সংখ্যা বাড়ছে।’

জেলেরা জানিয়েছে, সম্প্রতি সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় বাঘের বিচরণ দেখা যাচ্ছে। কয়রার এক জেলে বলেন, গত ২৩ জুলাই সুন্দরবনে মাছ ধরাকালীন সময় বাঘ তাদের উপর আক্রমণ করে। তারা কৌশলে বাঘের হাত থেকে রক্ষা পায়। তাছাড়া অনেক জায়গায় বাঘ ও শাবকের দেখা মিলছে বলে জানিয়েছেন জেলেরা।

সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. বশিরুল আল মামুন বলেন, সুন্দরবনের বাঘ ও সম্পদ রক্ষায় বন বিভাগ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। শিকারিরা যাতে অপরাধ সংগঠনের পর দ্রুত পালিয়ে যেতে না পারে সেজন্য সুন্দরবনে ইঞ্জিন চালিত বোট চলাচল নিষিদ্ধ রয়েছে। এছাড়া বন বিভাগের পক্ষ থেকে সুন্দরবনের জেলে, বাওয়ালি, বনজীবী ও বন্যপ্রাণীর নিরাপত্তার জন্য হুমকিসহ বিভিন্ন বিষয়ে মনিটরিং করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসের শুরুতে রয়েল বেঙ্গল টাইগার সংরক্ষণ ও উন্নয়নের জন্য ইউএনডিপির অর্থায়নে জয়েন্ট টাইগার সেন্সরস প্রকল্পের অধীনে পায়ের ছাপ দেখে বাঘ গণনা করা হয়। এ জরিপে ১ হাজার ৫৪৬টি পায়ের ছাপ পাওয়া যায়। বাচ্চা বাঘের ছাপ পাওয়া যায় ৩৪টি। এ শুমারিতে বাঘের সংখ্যা ছিল ৪৪০টি। কিন্তু স্ট্রেনদেনিং রিজিওনাল কো-অপারেশন ফর ওয়াইল্ড লাইফ প্রটেকশন শীর্ষক প্রকল্পের অর্থায়নে ওয়াইল্ড লাইফ ইন্সটিটিউট অব ইন্ডিয়ান (ডাব্লিউআইআই) সহায়তায় বনবিভাগ ক্যামেরা ট্রাপিং পদ্ধতি ব্যবহার করে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ৩০ জনের একটি দল বাঘ জরিপের কাজ করে ২০১৩ সালের নভেম্বর মাসে। এই জরিপ শেষ হয় ২০১৫ সালের এপ্রিল মাসে। এ জরিপে সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশে মাত্র ১০৬টি বাঘের অস্তিত্ব মেলে। এরপর বাঘ রক্ষায় তৎপর হয়ে ওঠে বন বিভাগ।

বন বিভাগের হিসাব মতে, ১৯৮১ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ৬৮টি বাঘ বিভিন্নভাবে হত্যার শিকার হয়। ২০১১ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি কোস্টগার্ড ও বন বিভাগ অভিযান চালিয়ে শরণখোলার বাংলাবাজার এলাকা থেকে ৩টি বাঘের চামড়া, ৪টি মাথা ও বিপুল পরিমাণ হাড় উদ্ধার করে। ২০১৫ সালের ১৬ অক্টোবর র‌্যাব-৮ ও র‌্যাব-৬ যৌথ অভিযানে সাতক্ষীরার ইটাগাছা সংগ্রাম টাওয়ারের সামনে থেকে ২টি বাঘের চামড়া উদ্ধার করে। ২০১১ সালের ৮ ডিসেম্বর মঠবাড়িয়া থানা পুলিশ বাসস্ট্যান্ড থেকে একটি বাঘের চামড়াসহ নবী হোসেনকে আটক করে।

/বিএল/ 

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মৌমাছির রানি হয়ে ওঠার রহস্য কী
মৌমাছির রানি হয়ে ওঠার রহস্য কী
তিন বছর নয়, এলডিসি উত্তরণ নিয়ে কীভাবে ভুল করলো দেশের প্রায় সব মিডিয়া
তিন বছর নয়, এলডিসি উত্তরণ নিয়ে কীভাবে ভুল করলো দেশের প্রায় সব মিডিয়া
অধিনায়ক হিসেবে ফিরেই জয় দেখলেন কুশল মেন্ডিস
অধিনায়ক হিসেবে ফিরেই জয় দেখলেন কুশল মেন্ডিস
মার্কিন সেনা হত্যা করলে যুদ্ধবিরতি শেষ, উপদেষ্টাদের জানালেন ট্রাম্প
মার্কিন সেনা হত্যা করলে যুদ্ধবিরতি শেষ, উপদেষ্টাদের জানালেন ট্রাম্প
সর্বাধিক পঠিত
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম