একজন বিচারপতি বিচার বিভাগ তৈরি করেন না বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেন, ‘বিচার বিভাগ কিন্তু অনেক লোক নিয়েই গঠিত। বিচার বিভাগের সঙ্গে নির্বাহী বিভাগের কোনও যুদ্ধ চলছে না। বাংলাদেশের বিচার বিভাগের কল্যাণের জন্যে তিনি (প্রধান বিচারপতি) হয়তো তার দুঃখের কথা বলেছেন। যে সমস্যাগুলো সমাধানের যোগ্য, সেগুলো অবশ্যই সমাধান করা হবে।’ তিনি রবিবার দুপুরে যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময়সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টে যখন বিচারকদের বসার জায়গার সংকট ছিল, তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তখন অ্যানেক্স বিল্ডিংটা করে দিয়েছিলেন। বর্তমানে অ্যনেক্স বিল্ডিংয়েও কিছু সমস্যা হচ্ছে, আরেকটি বিল্ডিংয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা প্রধান বিচারপতি যখন বলেছেন, জায়গা দেখিয়ে দিয়েছেন, সেই মুহূর্তে আরেকটি বিল্ডিংয়ের প্ল্যান অলরেডি প্ল্যানিং মিনিস্ট্রিতে পাঠানো হয়েছে। একদিনের মধ্যে তো আর বিল্ডিং করা যায় না, কেউ তা পারেও না। তার জন্য যেটুকু করা প্রয়োজন, আমরা তা করছি।’
বৃষ্টিতে বর্তমান সুপ্রিম কোর্টের ব্যবহার অনুপযোগী বিষয়টি উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৬৭ সালে আইয়ুব খান এই বিল্ডিংটি করেন। দোতলা ভিতের এই ভবনের ওপরে তিনতলা করার অনুপযোগী। যেহেতু অ্যানেক্স ভবনের পাশে আরেকটি বিল্ডিংয়ের কাজ প্ল্যানিং মিনিস্ট্রিতে রয়েছে, সেটি সম্পন্ন হলে এখানে স্থাপত্য, নির্মাণশৈলী ঠিক রেখে শক্তপোক্ত করে চারতলা বিল্ডিংয়ের কাজ শিগগিরই শুরু হবে।’ তিনি বলেন, ‘সাবেক প্রধানবিচারপতি রুহুল আমিন যখন বলেছিলেন, জজদের জন্য বিল্ডিংয়ের প্রয়োজন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওই সময় একটা বিল্ডিং করে দিয়েছিলেন।’
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘পাকিস্তান আমলে নারীদের জজ হওয়ার কোনও অধিকার ছিল না। ১৯৭৪ সালে জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু সেই অধিকার দেন আইন পাস করার মধ্য দিয়ে। এসব কথা ভুললে চলবে না। ’
যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট শরীফ আব্দুর রাকিবের সভাপতিত্বে মতবিনিময়সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম, আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহুরুল হক, জেলা ও দায়রা জজ মো. আমিনুল ইসলাম, আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি কাজী আব্দুস শহীদ লাল, অ্যাডভোকেট আব্দুল আলী, অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম, আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমএ গফুর প্রমুখ।
/এমএনএইচ/








