যশোরের ভবদহে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পাঠানো হয়েছে। অবিলম্বে পরিকল্পিত জোয়ারাধারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন ও মানবিক বিপর্যয়ের হাত থেকে জনপদকে রক্ষার দাবিতে সংগ্রাম কমিটি এই স্মারকলিপি দিয়েছে।
বুধবার (২ আগস্ট) সকালে ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক রণজিৎ বাওয়ালীর নেতৃত্বে ২০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল যশোর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এ স্মারকলিপি দেন। এছাড়া সংগ্রাম কমিটির নেতারা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে ভবদহ এলাকার সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় করেন।
মত বিনিময়কালে আলোচনায় অংশ নেন ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ, প্রধান সমন্বয়ক বৈকুণ্ঠ বিহারী রায়, যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী আব্দুল হামিদ, অ্যাড. আবু বকর সিদ্দীকী, কপোতাক্ষ বাঁচাও আন্দোলনের আহ্বায়ক অনিল বিশ্বাস প্রমুখ। যশোরের জেলা প্রশাসক আশরাফ উদ্দীন পরিস্থিতি উত্তরণে প্রয়োজনীয় ভূমিকা পালন করবেন বলে নেতাদের আশ্বস্ত করেন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ভবদহ এলাকার পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ। যশোরের অভয়নগর, মণিরামপুর, কেশবপুরের ১৫০টির মতো গ্রাম, বাজারঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ফসল ও মৎস্যঘের পানিতে তলিয়ে গেছে। এলাকার লাখ লাখ মানুষ এখন পানিবন্দি। সরকার যদি দ্রুত পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে ভবদহে আগের মতো দীর্ঘমেয়াদী বিপর্যয় দেখা দেবে।
নেতারা বলেন, এ অঞ্চলের বর্তমান জলাবদ্ধতার জন্য অতিবৃষ্টি দায়ী নয়। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি না হলে জলাবদ্ধতা ঘটার কারণই ছিল না। আবার স্বাভাবিক প্রবাহ অক্ষুণ্ন থাকলে নদীর গভীরতাও অক্ষুণ্ন থাকতো। এছাড়া সারাদেশে নদী, পানি ও পলি ব্যবস্থাপনা বিপর্যয়ের জন্য প্রধানত দায়ী নদী ও পানি ব্যবস্থাপনার ত্রুটি। পাকিস্তান আমলে ১৯৫৪ সালে বিশ্বব্যাংকের উদ্যোগে পাঠানো ক্রুগ মিশন বন্যা নিয়ন্ত্রণে কর্ডন, পোল্ডার, স্লুইসগেট, বাঁধ ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছিল। দেশ স্বাধীনের পরও পানি, পলি নদী ব্যবস্থাপনায় যত প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে এবং হচ্ছে তা সব একে একে ওই ক্রুগ মিশনের প্রস্তাবনারই পুনর্বাসন।
নেতারা এ অঞ্চলে মানবিক বিপর্যয় রোধে খাদ্য নিরাপত্তা, চিকিৎসা, সর্বোপরি ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন, বিল কপালিয়ায় টিআরএম বাস্তবায়নে গৃহীত সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাস্তবায়ন, আমডাঙ্গা খাল সংস্কার, ভবদহ স্লুইসগেটের ২১ ও ৯ ভেন্টের মাঝ দিয়ে সরাসরি নদী সংযোগ, হরিহর, আপারভদ্রা ও বুড়িভদ্রায় জরুরি ভিত্তিতে পলি অপসারণ, সব খাল পুনরুদ্ধার ও অবমুক্ত এবং প্রতিবন্ধক পাটা, জাল, শেওলা অপসারণসহ নদীর ধারে অবেধ ঘের উচ্ছেদে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানান।
/এফএস/
আরও পড়ুন- মরা ছাগল খালে, সাংবাদিক ৫৭ ধারার জালে








