কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মানি ও বেতনের ৬ লাখ টাকা নিজ অ্যাকাউন্টে রেখে দিয়েছিলেন মাগুরার এক প্রকল্প কর্মকর্তা। পরে মাগুরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে ওই টাকা তিনি ফেরত দিতে বাধ্য হয়েছেন।
মাগুরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশাফুর রহমান রবিবার (৬ আগস্ট) বলেন, ‘মাগুরা সদরের সরকারি একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের সদর উপজেলা সমন্বয়কারী ইমন হোসেন প্রকল্পের বিভিন্ন সমিতির সভাপতি ও ম্যানেজারদের সম্মানি ভাতার টাকাসহ কিছু মাঠকর্মীর বেতনের টাকা উত্তোলন করে ওই টাকা বিধিবহির্ভূতভাবে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে জমা রেখেছিলেন। গোপন সূত্রে বিষয়টি জানার পর এ ব্যাপারে তাকে চিঠি দিলে প্রকল্প সমন্বয়কারী ইমন হোসেন সেই টাকা অফিসে ফেরত দিয়ে গেছেন।’
ইউএনও আরও বলেন, ‘ওই প্রকল্প সমন্বয়কারী সদর উপজেলার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ভাতার প্রাপ্য টাকা বাবদ দেওয়া অর্থের মধ্যে এ বছরের জুন মাসের ১৫ তারিখে ১৪ হাজার টাকা, ১৬ তারিখে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৬৮০ টাকা এবং ১৭ তারিখে ৪ লাখ ৬২টি হাজার ৯১২ টাকাসহ মোট ৬ লাখ ৩৪ হাজার ৯৯২ টাকা উত্তোলনের পর তা বিতরণ না করে নিজের অ্যাকাউন্টে জমা রাখেন। এছাড়া এই প্রকল্পের কিছু সংখ্যক কর্মচারীর মার্চ মাসের বেতনের ৪১ হাজার টাকা তুলে সে টাকাও উপজেলা সমন্বয়কারী ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে রাখেন।
বিষয়টি জানতে পেরে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে ওই টাকা বিতরণে অনিয়মের ব্যাপারে জানতে চাইলে প্রকল্প সমন্বয়কারী বৃহস্পতিবার (৩ আগস্ট) ইউএনও অফিসে এসে টাকা ফেরত দেন।’
এ ব্যাপারে প্রকল্প সমন্বয়কারী ইমন হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সমিতির সভাপতি ও ম্যানেজারদের সম্মানি ভাতা প্রতিমাসে নিয়মিতভাবেই দেওয়া হয়। তবে, ঋণের কিস্তি ও সঞ্চয় শতকরা ৭০ ভাগ আদায় না হওয়া পর্যন্ত সমিতির সভাপতি ও ম্যানেজারদের সম্মানি ভাতা এবং একই সঙ্গে কর্মচারীদের বেতন না দেওয়ার জন্য প্রকল্প পরিচালকের নির্দেশনা থাকায় আমি ওই টাকা নিজ অ্যাকাউন্টে জমা রেখেছিলাম।’
এ বিষয়ে ইউএনও বলেন, প্রকল্পের টাকা ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে রাখা এবং ফেরত দেওয়ার পর বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
/এআর/








