২০১৭-১৮ অর্থবছরে খুলনা সিটি করপোরেশনের ৪৪০ কোটি ৭৯ লাখ ৮৮ হাজার টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। সিটি মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বৃহস্পতিবার (১০ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় নগর ভবনের শহীদ আলতাফ মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ বাজেট ঘোষণা করেন। নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মেয়র।
একই সেঙ্গ সিটি মেয়র ২০১৬-১৭ অর্থবছরের ২৬৪ কোটি ৫২ লাখ ৪৭ হাজার টাকার সংশোধিত বাজেটও উপস্থাপন করেছেন।
কেসিসি’র অর্থ ও সংস্থাপন স্থায়ী কমিটির সভাপতি কাউন্সিলর শেখ মোঃ গাউসুল আযম এর সভাপতিত্বে বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠানে খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি সাবেক সাংসদ নজরুল ইসলাম মঞ্জু, কেসিসি’র প্যানেল মেয়র, কাউন্সিলর, সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর, সাবেক মেয়র, খুলনা পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান, কাউন্সিলরসহ নগরীর বিশিষ্ট ব্যক্তি, সাংবাদিক এবং কেসিসি’র কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাজেটের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করে মেয়র বলেন, ‘আমাদের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ বাজেট প্রণয়ণ করা হয়েছে। নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নতুন কোনও করারোপ করা হয়নি। বকেয়া পৌরকর আদায়, নবনির্মিত সব স্থাপনার ওপর প্রচলিত নিয়মে কর ধার্য এবং নিজস্ব আয়ের উৎস সম্প্রসারণের মাধ্যমে করপোরেশনের আয় বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বসতবাড়ির হোল্ডিং ট্যাক্স আগের মতো করমুক্ত রাখা হয়েছে এ বাজেটে।’
এই বাজেটকে উন্নয়নমুখী বাজেট হিসেবে উল্লেখ করে মেয়র বলেন, ‘বাজেটে শহরের ভৌত অবকাঠামো, সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এছাড়া শহর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে বাজেটে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। নাগরিক সেবা সম্প্রসারণ ও সেবার মান উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন, পার্ক, মসজিদ, মন্দির, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন এবং কেসিসি’র বিভিন্ন দফতর আধুনিক প্রযুক্তির আওতায় আনাসহ সামাজিক উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। নগরীর জলাবদ্ধতা দূরীকরণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগ প্রতিরোধে মশা নিধন এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে নিয়মিত যে ক্ষতি হচ্ছে তা মোকাবেলায় অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং ক্ষতিগ্রস্থদের স্বনির্ভর করে গড়ে তোলার দিক নির্দেশনাও এ বাজেটে রয়েছে।’
বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠানে সিটি মেয়র জানান,বাজেটে রাজস্ব ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫৫ কোটি ১৩ হাজার টাকা এবং সরকারি অনুদান ও বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট উন্নয়ন খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৮৫ কোটি ৭৯ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।
কেসিসি মেয়র বলেন, খুলনা মহানগরীর সার্বিক উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণের জন্য ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি), জার্মান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (কেএফডব্লিউ), জার্মান উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা (জিআইজেড), ইউনিসেফ, ইউএনডিপি, বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন দাতা সংস্থার আর্থিক সহায়তায় নগরীতে ১০টি উন্নয়ন প্রকল্প চলমান রয়েছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এসব প্রকল্পে ১৮৮ কোটি ৬ লাখ ৭৫ হাজার টাকার উন্নয়ন সহায়তা পাওয়া যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে কেসিসি মেয়র বলেন, ‘প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না পাওয়া এবং বরাদ্দকৃত অর্থ সময়মতো ছাড় না পাওয়ায় প্রতিশ্রুত কিছু কিছু কাজ বাস্তবায়ন করতে ব্যাহত হচ্ছে। তবে আমার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির অধিকাংশ কাজ ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন করা হয়েছে।’
/এসএসএ/এফএস/
আরও পড়ুন- দক্ষিণের ৫ জেলার ৩৮ রুটে বাস ধর্মঘট চলছে








