পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে যশোরের বেনাপোল ও শার্শার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে বৈধ ও অবৈধ পথে ভারত থেকে আসছে গরু। এতে গরুর দাম কমে যাওয়ার আশঙ্কায় বিপাকে পড়েছেন দেশি খামারিরা। ঈদের আগের দিন পর্যন্ত এ সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়বে বলে বিজিবি 'কাস্টম' ভ্যাট অফিস ও গরু ব্যবসায়ীরা ধারণা করছেন।
অবৈধ পথে বা চোরাচালানের মাধ্যমে কী পরিমাণ গরু ভারত থেকে দেশে আসছে তার হিসাব না থাকলেও বৈধ পথের একটি হিসাব রয়েছে বিজিবি, কাস্টম ও ভ্যাট অফিসে। এ হিসেবে গত এক মাসে ভারত থেকে ৮ হাজার ৬৭৩টি গরু ও ১ হাজার ১৮৩টি ছাগল ভারত থেকে এসেছে বৈধ পথে।সেখান থেকে সরকারের ভ্যাট আদায় হয়েছে ৪৬ লাখ ৯১ হাজার ৪০০ টাকা।
শার্শা উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস ইনচার্জ ড. জয়দেব কুমার সিংহ বলেন , ‘বেনাপোল ও শার্শা এলাকায় ছোট বড় মিলায়ে প্রায় ২হাজার ১০০টি গরু ও ছাগলের খামার রয়েছে। কোরবানি উপলক্ষে উপজেলায় ১৮ হাজারেরও বেশি কোরবানি উপযুক্ত পশু রয়েছে। এরমধ্যে গরু সাড়ে ১৫ হাজার ও আড়াই হাজার ছাগল রয়েছে। উপজেলার চাহিদা মিটিয়েও দেশের অন্যত্র কোরবানির পশু পাঠানো সম্ভব।’
যশোর জেলার ১৪১ কিলোমিটার ভারত সীমান্ত।আর এ সীমান্তের বেশিরভাগ স্থান জুড়ে কাঁটাতারের বেড়া। তবে যেসব স্থানে বেড়া নেই সেই পথ দিয়ে অনায়াসে গরু আসে। আর যে পথে কাঁটাতারের বেড়া সেখানে নেওয়া হয় ভিন্ন কৌশল। বৈধ পথে গরু, ছাগল ও ভেড়া আনার জন্য খুলনা ২১ বিজিবির আওতায় কয়েকটি খাটালের অনুমোদন দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
তবে বেনাপোলের পুটখালী, দৌলতপুর শার্শার অগ্রভুলট ও গোগা এই চারটি খাটালে বর্তমানে সীমিত গরু আসছে। বেনাপোল সীমান্ত এলাকার বড় বড় দেশি গরুর খামার পুটখালী গ্রামে। এখানে খামার ব্যবসায়ীরা হতাশায় ভুগছেন।
তারা জানান, সারা বছর পর ভারত কোরবানির সময় দেদারছে সীমান্ত দিয়ে গরু প্রবেশ করিয়ে তাদের ব্যবসাকে ধ্বংস করছে। যেভাবে ভারত থেকে গরু আসছে তাতে ঈদের সময় গরুর দাম কমে যাবে। তারা সারা বছর ধার দেনা করে গরু যত্নসহকারে পালন করে বছর শেষে কিছু লাভের আশায়।
শার্শার নাভারণ পশু শুল্ক করিডোরের দায়িত্বরত সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা সুমা মনি বলেন, ‘বেনাপোল ও শার্শা সীমান্তের চারটি পশুহাট পুটখালী, দৌলতপুর, অগ্রভুলট ও গোগা দিয়ে নাভারণ করিডোরে যে পশু আসে তার ভ্যাট আদায় করা হয়। গড়ে প্রতিদিন সাড়ে ৩ থেকে ৫০০টি পশু আসছে। ঈদ সামনে রেখে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।’
কোরবানির আগে পশু আমদানি বেড়ে গেলে বা ভারত থেকে পশু আসা বৃদ্ধি পেলে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন দেশি খামারিরা। তারা যে আশা নিয়ে গরু মোটাতাজাকরণ করেছিলেন সেভাবে দাম না পাওয়ার আশঙ্কা করছেন। অবশ্য খুব বেশি ক্ষতি হবে এমনটা মনে করছেন না উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. জয়দেব কুমার সিংহ।
এদিকে ঈদুল আজহা উপলক্ষে ভারতীয় গরু আসার ফলে দেশিয় গরু খামারিরা পথে বসতে বসেছে। পুটখালির খামার মালিক নাসির উদ্দিন জানান, সারা বছর দেশি গরুর খামার ব্যবসায়ীরা বাজার ধরার আশায় খেয়ে না খেয়ে সন্তানের মত লালন-পালন করে থাকে এসব গরু। তারা গরুর খাদ্যসহ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, এছাড়া শীত ও গরম বুঝে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়াসহ রাতের ঘুম হারাম করে গরুর যত্ম নিয়ে থাকে। বেশি মুনাফা লাভের আশায় সীমান্ত দিয়ে ব্যবসায়ীরা ভারত থেকে গরু আনছে। ভারতের ব্যবসায়ীরাও গরুর টাকা ভালো পাওয়ায় এসময় বাংলাদেশে গরু পাঠাচ্ছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশি গরুর খামারিরা।
শার্শার উলাশি গ্রামের তরিকুল ইসলাম বলেন, সারা বছর গরু লালন-পালন করে থাকি কোরবানির সময় কিছু টাকা লাভের আশায়। এ বছর আমি ১০টি বড় জাতের গরু পালন করেছি। গোয়াল ঘরে ফ্যানের ব্যবস্থা করতে হয়, ভালো খাবার দেওয়া হয়। দেখা যাক কষ্টের মূল্য পাওয়া যায় কিনা।








