জেলে কার্ড নেই মংলার জেলেদের

আবুল হাসান, মংলা
০৮ অক্টোবর ২০১৭, ১০:৫২আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০১৭, ১০:৫২

জেলে কার্ড নেই মংলার জেলেদের মা ইলিশ রক্ষায় সারাদেশের মতো মংলা ও পশুর নদীতে জাল ফেলছেন না উপকূলের জেলেরা। গত ১ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত মংলা ও সুন্দরবন এলাকার নদ-নদীতে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ আহরণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এজন্য স্থানীয় প্রশাসন এখানকার নদ-নদীতে টহল জোরদার করেছে। ইলিশ রক্ষায় গঠন করা হয়েছে টাস্কফোর্সও। কোস্টগার্ড, বনবিভাগ ও নৌ পুলিশের অভিযান চলছে দিন-রাত। এছাড়া ২২ দিন এসব এলাকায় পাস-পারমিট বন্ধ রাখা হয়েছে। এ অবস্থায় মাছ ধরতে নামছেন না উপকূলের জেলেরা। নদী এখন জাল শূন্য। কিন্তু বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা না থাকায় কষ্টে আছেন মংলা উপকূলের প্রায় ৯ হাজার জেলে পরিবার।নিষেধাজ্ঞার সময় অন্যান্য জেলায় জেলে কার্ডের মাধ্যমে চাল দেওয়া হয়। কিন্তু মংলা উপজেলায় এ ধরনের কোনও পদক্ষেপ না নেওয়ায় কষ্টে আছে জেলে পরিবারগুলো।

নদীতে নামছেন না জেলেরা উপজেলা মৎস্য বিভাগ থেকে জানা গেছে, ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম ১ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন সারাদেশে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুদ এবং বাজারজাতকরণ ও বিক্রি করলে এক বছর থেকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড বা পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড দেওয়া হবে। এসব কারণে নদীতে নামছেন না জেলেরা।

জানা গেছে, উপজেলার চিলা, জয়মনি, সোনাইলতলা ও সুন্দরবন গ্রামের এক লাখ মানুষ মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীল। তাদের জীবিকার একমাত্র উৎস নদীতে মাছ ধরা। নিষেধাজ্ঞার কারণে তাদের পরিবারগুলোতে দেখা দিয়েছে তীব্র হতাশা।

উপজেলার দক্ষিণ কাইনমারীর জেলে চন্দন সরদার (৪৫), রতন বিশ্বাস (৩৫),লিন্টু বাড়ৈ (৪০) জানান, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তারা নদীতে জাল ফেলছেন না। কিন্তু এই সময়ে সরকারের পক্ষ থেকে বিকল্প ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা। নদী নির্ভরশীল জেলেরা পরিবার পরিজন নিয়ে এখন কষ্টে আছেন বলেও জানান তারা।

নদীতে নামছেন না জেলেরা জাতীয় মৎস্য সমিতির মংলা শাখার সভাপতি বিদ্যুৎ মণ্ডল বলেন, ‘দেশের অন্যান্য এলাকায় জেলেদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করা হলেও মংলার প্রায় ৯ হাজার জেলের জন্য কোনও ব্যবস্থা নেয়নি উপজেলা মৎস্য বিভাগ। অন্যসব এলাকার জেলেদের জেলে কার্ডের মাধ্যমে চাল দেওয়া হচ্ছে। অথচ আমাদের কপালে নেই।’

এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফেরদাউস আনসারীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জেলেদের অভিযোগ সত্য। তাদের জন্য সরকারিভাবে এক আনাও বরাদ্দ নেই।’

তিনি বলেন, ‘ভোলা, চাঁদপুর ও শরীয়তপুর জেলার জেলেদের জন্য এসব বরাদ্দ আছে।’

তিনি জানান, মংলা উপজেলায় সরকারি হিসাব মতে, সাত হাজার ছয়’শ নিবন্ধিত জেলে এবং প্রায় এক হাজার অনিবন্ধিত জেলে আছে। তাদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞার ২২ দিনে বিকল্প আয় বা খাদ্য বরাদ্দ না করলে তাদের পক্ষে কিছু করা সম্ভব না।

আরও পড়ুন:

রাজধানীতে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র নিহত

/বিএল/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম