সুন্দরবনের দুবলার চরে প্রতি বছর নভেম্বরে রাস পূর্ণিমা উৎসব উপলক্ষে তিন দিনের মেলা বসে। এ মেলায় বিভিন্ন এলাকা থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী, পুরুষ ও দর্শনার্থীসহ লক্ষাধিক লোক আসে। অথচ এ এলাকায় এখনও গড়ে ওঠেনি স্যানিটেশন ব্যবস্থা। ফলে মানববর্জ্যসহ নানা বর্জ্য যত্রতত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলা হচ্ছে। এতে পানি ও পরিবেশ দূষণ বাড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন খুলনার নাগরিক ও পরিবেশ কর্মীরা।
পরিবেশবাদীদের মতে, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ২০৩০ সালের মধ্যে অর্জন করতে হলে স্যানিটেশনের এ ধরনের ছোট ছোট গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকেও মাথায় রাখতে হবে। এ বিষয়গুলো স্বল্প মেয়াদে বা আপাতত ক্ষতিকর মনে না হলেও দীর্ঘ মেয়াদে এর ক্ষতির প্রভাব ব্যাপক হতে পারে।
খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. ফারুক হোসেন বলেন, দুবলার চরে বছরের একটা নির্দিষ্ট সময়ে জেলেরা অবস্থান নেন। তবে, সংখ্যা খুবই কম থাকে। আর রাসমেলা উপলক্ষে সেখানে লক্ষাধিক লোকের আগমন ঘটে। ফলে রান্নাসহ নানা বর্জ্যর সঠিক ব্যবস্থাপনা নেই। মানববর্জ্যও যত্রতত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকছে। যার সুদূর প্রসারী নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে পানি ও পরিবেশের ওপর। এ বিষয়টি সমাধানের জন্য নাগরিক নেতারা তার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এবং এ বছরই সুষ্ঠু স্যানিটেশন ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, সামগ্রিকভাবে খুলনা থেকে প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে দুবলা চর যেতে একদিন সময় লাগে। এ জন্য লঞ্চ বা বড় যানবাহন ভাড়া করা প্রয়োজন। আর লক্ষাধিক লোকের জন্য প্রয়োজনীয় স্যানিটেশন ব্যবস্থা করার জন্য অর্থও প্রয়োজন। সব মিলিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে এ পদক্ষেপ নেওয়া কঠিন। দূরত্বের কারণেও এ পদক্ষেপ গ্রহণ করা যাচ্ছে না। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, আগামী ২ নভেম্বর থেকে দুবলার চরে রাস পূর্ণিমার তিন দিনের উৎসব শুরু হবে। এ উৎসবকে ঘিরে সব ধরনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। বনবিভাগ দুবলা চরে যাতায়াতে দর্শনার্থী ও পূর্ণার্থীদের জন্য আটটি রুট নির্ধারণ করেছে। র্যাব, পুলিশ, কোস্টগার্ডসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত বাহিনীর সদস্যরা এ সব রুটের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থান নিয়ে নিরাপত্তাসহ সার্বিক বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করবে।
আরও পড়ুন:
নরসিংদীর পৌর মেয়র লোকমান হত্যা: উচ্চ আদালতে থমকে আছে বিচার কাজ








