দুটি যুদ্ধজাহাজ ও দুটি টাগ বোটের কমিশনিং করলেন রাষ্ট্রপতি

খুলনা প্রতিনিধি
০৮ নভেম্বর ২০১৭, ১৭:৫৯আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০১৭, ১৮:১৬

২টি যুদ্ধজাহাজ ও ২টি টাগ বোটের কমিশনিং করলেন রাষ্ট্রপতি দুটি যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিনের জন্য নির্মিত দুটি টাগবোটের কমিশনিং করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এখন থেকে নৌবাহিনী এগুলো ব্যবহার করবে। বুধবার (৮ নভেম্বর) দুপুরে খুলনার বানৌজা তিতুমীর নৌ-ঘাঁটিতে কমিশনিং অনুষ্ঠানে যোগ দেন রাষ্ট্রপতি। খুলনা শিপইয়ার্ডে এই চারটি নৌযান নির্মিত হয়েছে।

কমিশনিং এর সময় নৌবাহিনী প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নিজামউদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা গওহর রিজভী, অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিন, মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মিজানসহ সংসদ সদস্য ও নৌবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।  

রাষ্ট্রপতি এ সময় বলেন, ‘দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও সমুদ্রসীমা রক্ষায় নৌ-বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আজ দেশে তৈরি সর্ববৃহৎ দুটি যুদ্ধজাহাজ কমিশনিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ নৌ-বাহিনী ত্রিমাত্রিক বাহিনীতে পরিণত হওয়ার পথে আরও একধাপ এগিয়ে গেল। বর্তমান সরকার নৌবাহিনীকে আধুনিক ও যুগোপযোগী বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন, যুদ্ধ জাহাজ সংগ্রহ এবং বিদ্যমান জাহাজগুলোর অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাস্তবমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। সেই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী আজ মর্যাদাশীল একটি বাহিনীতে পরিণত হয়েছে।’ ২টি যুদ্ধজাহাজ ও ২টি টাগ বোটের কমিশনিং করলেন রাষ্ট্রপতি

জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু ১৯৭৪ সালে নৌবাহিনীকে নেভাল এনসাইন প্রদানের মাধ্যমে একটি আধুনিক ও শক্তিশালী নৌবাহিনী গঠনের সূচনা করেন। তার দিকনির্দেশনা অনুসরণ করে নৌবাহিনীকে শক্তিশালী করার জন্য আজ আমরা নিজেরা যুদ্ধজাহাজ তৈরি করতে পেরেছি।’

রাষ্ট্রপতি বলেছেন, ‘আমাদের জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নে সমুদ্র এলাকার নিরাপত্তা বিধান অপরিহার্য। ৭১০ কিলোমিটার উপকূলীয় এলাকায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে তিন কোটি মানুষ জীবিকা নির্বাহ করে। বহিঃর্বিশ্বের সঙ্গে দেশের বাণিজ্যের ৯০ ভাগেরও বেশি সমুদ্রপথে পরিচালিত হয়। সমুদ্রসীমার সার্বভৌমত্ব রক্ষা, চোরাচালান, জলদস্যু দমন ও জাহাজ চলাচলে সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নৌবাহিনীকে সতর্ক থাকতে হবে।’

২টি যুদ্ধজাহাজ ও ২টি টাগ বোটের কমিশনিং করলেন রাষ্ট্রপতি

যুদ্ধজাহাজ তৈরির সক্ষমতা অর্জন করায় রাষ্ট্রপতি খুলনা শিপইয়ার্ডকে ধন্যবাদ জানান। কমিশনিং শেষে তিনি জাহাজ দুটি ঘুরে দেখেন ও সুন্দরবনে জলদস্যু দমনের একটি মহড়া উপভোগ করেন।

খুলনা শিপইয়ার্ড সূত্রে জানা যায়, প্রতিটি যুদ্ধ জাহাজের দৈর্ঘ্য ৬৪ দশমিক ২ মিটার, প্রস্থ ৯ মিটার ও গভীরতা ৫ দশমিক ২৫ মিটার। জাহাজ দুটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৮০০ কোটি টাকা। ২৫ নটিক্যাল মাইল গতিতে চলতে সক্ষম জাহাজ দু’টিতে অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র রয়েছে। শত্রুর সাবমেরিন শনাক্ত ও বিধ্বংসী টর্পেডো নিক্ষেপ করতেও সক্ষম জাহাজ দুটি। স্বাভাবিক সময়ে সমুদ্রসীমার নিরাপত্তায় ব্যবহৃত হবে এই জাহাজ। এই জাহাজের লাইফ টাইম ২৫ বছর। প্রতিটি জাহাজে ৭৬ দশমিক ২ মিলিমিটারের একটি গান, ৩০ মিলিমিটারের একটি গান ও ২টি করে টর্পোডো লঞ্চার রয়েছে। এছাড়া রয়েছে ২টি নেভিগেশন রাডার, একটি এয়ার অ্যান্ড সারফেস রাডার, একটি ট্রাকিং রাডার ও একটি সোনার। খুলনা শিপইয়ার্ডে নির্মিত হালদা ও পশুর নামের টাগ বোটের দৈর্ঘ্য ৩২ মিটার। এই টাগবোট নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১৪২ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন- খুলনা শিপইয়ার্ডে তৈরি হতে পারে বিদেশের জাহাজ

/এফএস/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম