পারিবারিক কলহের জেরে যশোর উপশহরে সন্ত্রাসীদের গুলিতে এনজিও কর্মকর্তা গোলাম কুদ্দুস ভিকু নিহত হন বলে দাবি করেছেন তার চতুর্থ স্ত্রী শারমিন আক্তার লাকি ও বেয়াই বিপ্লব সুলতান।
শারমিন আক্তার ও বেয়াই বিপ্লব সুলতান দাবি করে বলেন, এনজিওর এরিয়া ম্যানেজার বাহার আলী ঋণের নামে প্রতিষ্ঠানের ১৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন। এ নিয়ে বেশকিছু দিন ধরে বিচার-শালিস হওয়ার কথা চলছিল। ভিকুর তৃতীয় স্ত্রী আমেনার সঙ্গে তালাকের বিষয়ে আদালতে মামলা চলছে। এ অবস্থায় আমেনা প্রায়ই ভিকুকে হত্যার হুমকি দিতো। বাহার ও আমেনার মধ্যে যোগাযোগ রয়েছে। তারাই এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।
এদিকে রবিবার বিকালে কথা হয় নিহতের ঘনিষ্ঠ বন্ধু কামরুজ্জামান মিঠুর সঙ্গে। তিনি বলেন, গত ৮-৯ মাস ধরে ভিকুর সঙ্গে তেমন যোগাযোগ ছিল না। তবে, বছর চারেক আগে ভিকুর সংস্থার একজন ব্রাঞ্চ ম্যানেজার যার নাম আমেনা তার বিষয়ে কয়েক দফা শালিসে গিয়েছিলাম। ভিকুকে ফাঁদে ফেলে ওই মেয়েটি তাকে স্থানীয় কয়েক যুবকের সাহায্যে বিয়ে করেন। এছাড়া সংস্থার কিছু চেক জোর করে স্বাক্ষরও করিয়ে নেন। এসব ঘটনায় ভিকু আমেনার বিরুদ্ধে মামলাও করেন। ভিকুর হত্যাকাণ্ডের এটিও একটি কারণ হতে পারে।
এনজিও কর্মকর্তা গোলাম কুদ্দুস ভিকু হত্যায় কিছু তথ্য পেয়েছে পুলিশ। তবে, তদন্তে সুবিধার জন্যে তা প্রকাশ করতে চাইছেন না যশোর কোতোয়ালি থানার ওসি আজমল হুদা।
এদিকে ভিকু হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তার গাড়িচালক আবু তাহের, সংস্থার হিসাবরক্ষক মাসুদুর রহমান ও তৃতীয় স্ত্রী আমেনাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ।
প্রসঙ্গত, শনিবার (২ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে যশোর উপশহর এলাকার সি- ব্লকের বাসিন্দা প্রত্যাশা সমাজ কল্যাণ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক গোলাম কুদ্দুস ভিকু নিজ বাড়ির সামনে দুর্বৃত্তদের ছোড়া বোমা ও গুলিতে নিহত হন। ভিকু হত্যার ঘটনায় মামলার এজাহারের প্রস্তুতি চলছে। নিহতের চতুর্থ স্ত্রী শারমিন আক্তার লাকি মামলার বাদী হবেন।








