ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে দুর্ঘটনা কবলিত সুবল চন্দ্র রয় নামের এক ব্যক্তির সাড়ে ৩ লাখ টাকা উদ্ধার করে ফেরত দিয়ে সততার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মী শেখ মোস্তাফিজুর রহমান। সোমবার (২৫ ডিসেম্বর) সকালে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, মোটরসাইকেলে করে কালীগঞ্জ থেকে যশোর যাচ্ছিলেন নিউ হল্যান্ড কোম্পানির মার্কেটিং অফিসার সুবল চন্দ্র রয়। পথিমধ্যে মোবারকগঞ্জ সুগার মিলের সামনে মামুনুর রহমান নামের এক পথচারীকে বাঁচাতে গিয়ে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে তিনি ছিটকে পড়েন। পাশে পড়ে ছিল কালো রংয়ের একটি ব্যাগ। সে ব্যাগের মধ্যে ছিল হল্যান্ড কোম্পানির ৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন ফায়ার সার্ভিসকর্মী শেখ মোস্তাফিজসহ অন্যান্য সদস্যরা। তারা সুবলকে উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান এবং ব্যাগটি ফায়ার সার্ভিসকর্মী মোস্তাফিজের দায়িত্বে রাখেন।
কালীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) শামসুর রহমান বলেন, ‘একজন পথচারীকে বাঁচাতে গিয়ে সুবল গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে রাস্তার পাশে ছিটকে পড়েন। সে সময় তার ব্যাগের মধ্যে ৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা ছিল। সেই ব্যাগটিও সেখানে পড়ে থাকে। পরে কালীগঞ্জ ফারায় সার্ভিসের গাড়িচালক ফায়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ব্যাগটি নিজ দায়িত্বে রাখেন আর হাসপাতালে আহত ব্যক্তি সুবলকে ভর্তি করান। পরবর্তীতে আহত সুবলের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় জানার পর মোস্তাফিজুর ব্যাগটি তার কাছে আছে বলে সুবলকে জানান। সে সময় সুবল তার কোম্পানির ম্যানেজারের কাছে টাকাভর্তি ব্যাগটি দেওয়ার জন্য মোস্তফিজুরকে অনুরোধ করেন। পরে ফায়ারম্যান কোম্পানির লোকদের খবর দেন। খবর পেয়ে নিউ হল্যান্ড কোম্পানির রিজিওন্যাল সেলস ম্যানেজার সাইদুর রহমান ও সার্ভিস ইঞ্জিনিয়ার জিয়াউর রহমান কালীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অফিসে আসলে ৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকাসহ ব্যাগটি তাদের হাতে ফেরত দেন মোস্তাফিজুর।
হাসপাতালে ভর্তি সুবল চন্দ্র রয় বলেন, ব্যাগে নিউ হল্যান্ড কোম্পানির ৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা ছিল। ব্যাংক বন্ধ থাকায় আমি টাকা নিয়ে যশোরে যাচ্ছিলাম কোম্পানিতে জমা দেবার জন্য। টাকা যদি হারিয়ে যেত তাহলে চাকরি হারাতাম। জেলহাজতও খাটতে হতো। কিন্তু ফায়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান আমাকে বড় বিপদের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তিনি আমার কাছে সততার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।’
ফায়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমি আমার দায়িত্ব পালন করেছি মাত্র। কারণ এমন বিপদ তো তারও হতে পারতো। মানুষের বিপদ আপদে এগিয়ে আসাই আমাদের দায়িত্ব।’
টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘সততা টাকার চেয়ে অনেক বেশি মূল্যবান।’








