নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে সাতক্ষীরা শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল সাত দিন বয়সী শিশু শর্মিষ্ঠা দেবনাথ। ছয় দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর বুধবার রাতে অবস্থার অবনতি হলে তার বাবা বারবার দায়িত্বরত চিকিৎসককে মোবাইলে ফোন দেন। কিন্তু তিনি তা রিসিভ করেননি। বৃহস্পতিবার (৪ জানুয়ারি) সকালে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে শিশুটি।
চিকিৎসকের অবহেলায় শর্মিষ্ঠার মৃত্যু হয়েছে, অভিযোগ তার পরিবারের। তবে শিশুটির দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, হায়াত-মউত আল্লাহর হাতে। তার কোনও অবহেলা ছিল না।
মৃত শর্মিষ্ঠা দেবনাথ সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা গ্রামের সুমঙ্গল দেবনাথের মেয়ে। সুমঙ্গল দেবনাথ জানান, সাত দিন বয়সে শর্মিষ্ঠা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার পর তাকে গত ২৭ ডিসেম্বর সাতক্ষীরা শিশু হাসপাতালের ১ নম্বর কেবিনে ভর্তি করা হয়। শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. এসএম জাকির হোসেন তার মেয়ের চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তারা শর্মিষ্ঠার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। এজন্য খুলনায় স্থানান্তরের প্রয়োজন আছে কিনা তা কয়েকবার ডাক্তারের কাছে জানতে চেয়েছিলেন। এরপরও তারা স্থানান্তরের পরামর্শ দেননি।
তিনি জানান, বুধবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে শর্মিষ্ঠার অবস্থার অবনতি হয়। এরপর তিনি নিজে ডা. এসএম জাকির হোসেনকে মোবাইল ফোনে বার বার জানানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। মোবাইল ফোন বন্ধ পান সংশ্লিষ্ট কর্তব্যরত সেবিকারও। বৃহস্পতিবার সকালের দিকে শর্মিষ্ঠার মৃত্যু হয়।
সুমঙ্গল দেবনাথ বলেন, অবস্থার অবনতির পরপরই সুচিকিৎসা দেওয়া গেলে শর্মিষ্ঠাকে হয়ত বাঁচানো যেতো। ডাক্তারের অবহেলায় তার মেয়ে মারা গেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সাতক্ষীরা শিশু হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. এসএম জাকির হোসেন বলেন, ‘মোবাইল ফোন সাইলেন্ট থাকার কারণে তাদের (শিশুটির অভিভাবকের) কল রিসিভ করা সম্ভব হয়নি।’ তিনি আরও বলেন, ‘হায়াত- মউত আল্লাহর হাতে। শিশুটির যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা আগে থেকেই করা ছিল।’








