পাচারের সাড়ে আট মাসেও উদ্ধার হয়নি ২২ মাসের শিশু

খুলনা প্রতিনিধি
০৭ জানুয়ারি ২০১৮, ১৯:৩৩আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০১৮, ১৯:৩৩

মা-বাবার সঙ্গে নীল পাচারের সাড়ে আট মাসেও ২২ মাস বয়সী শিশু মৌসুম গাইন নীলকে উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। পাচার মামলায় শিশুর কাকা রিপন গ্রেফতার হলেও বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। সিআইডি পুলিশ আবেদন করেও তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নিতে পারেনি। শিশু পুত্রকে উদ্ধারে মা ফরিদা ইয়াসমিন মনি খুলনা-ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে ছুটে বেড়াচ্ছেন।

নীলের মা ফরিদা ইয়াসমিন মনি জানান, গত বছরের ১৭ এপ্রিল লিটনসহ ৩/৪ জন নীলকে ঢাকার বাসা থেকে নিয়ে যায়। এরপর ওই বছরের ২৩ এপ্রিল মিমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে নীলকে আনা হয়নি। এরপর গত ১০ অক্টোবর খুলনার গল্লামারী এলাকায় নীলের কাকা রিপনের সঙ্গে নীলকে দেখা যায়। সেখানে রিপনের মা ও স্ত্রী ছিলেন। এরপর খুলনার সোনাডাঙ্গা থানায় মানবপাচার আইনে ওই তিন জনের নামে মামলা দয়ের করা হয়। তিনি আরও জানান, মামলাটি শুরুতে তদন্ত করে পুলিশ। তবে গত ৩১ অক্টোবর সেটি সিআইডিতে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু তদন্তে কোনও অগ্রগতি না হওয়ায় ডিসেম্বর মাসে ঢাকা নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালে লিটনসহ তার পরিবারের সদস্যদের নামে মামলা দায়ের করা হয়। এ মামলায় শিশুকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ জারি হয়। কিন্তু ৭ জানুয়ারি শিশুটিকে আদালতে আনা হয়নি। শুনানি শেষে নীলকে আদালতে হাজিরের আদেশ এক সপ্তাহের জন্য স্ট্যান্ডওভার (মুলতবি) করেছেন হাইকোর্ট।

ফরিদা ইয়াসমিন জানান, ২০১৫ সালের ১০ মার্চ ধর্মান্তরিত হওয়ার পর ৩০ মার্চ লিটনকে বিয়ে করেন। প্রাথমিকভাবে লিটনের পরিবার এই বিয়ে মেনে নেয়নি। নীলের জন্ম হওয়ার পরও নানা ষড়যন্ত্র চলতে থাকে। এরই অংশ হিসেবে তার ছেলেকে নিয়ে লুকিয়ে রাখা হয়। তার ধারণা নীলকে ভারতে কোনও  আত্মীয় বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘দেবর রিপন জামিনে বের হয়ে এসে আমাকে হেনস্তা করতে শুরু করেছে। আমার প্রথম পক্ষের মেয়েকে জড়িয়েও নানা অপপ্রচার করা হচ্ছে।’

সিআইডি খুলনার পরিদর্শক আবু মুসা খন্দকার জানান, ৩১ অক্টোবর মামলার তদন্তভার গ্রহণ করার পর ১ নভেম্বর প্রধান আসামি রিপনকে গ্রেফতার করা হয়। কিন্তু ঘটনাস্থল ঢাকা হওয়ার কারণে খুলনার আদালত রিপনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেননি। রিপন ২০ দিন জেলে থাকার পর আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হয়। মামলার অপর দুই নারী আসামিকে গ্রেফতারে আদালত থেকে রিক্যুইজেশন বের করে দাকোপে পাঠানো হয়েছে।

তিনি জানান, নীলের বাবা লিটন হিন্দু, মা মুসলমান। লিটন দাকোপ উপজেলার পোদ্দারগঞ্জ এলাকার সাহেবের আবাদ গ্রামের নিবাসী বিনয় গাইনের ছেলে। পুলিশ ওই বাড়িতেও অভিযান চালিয়েছে। কিন্তু শিশু নীলের সন্ধান পাওয়া যায়নি। খুলনায় লিটনের বোনসহ আত্মীয় স্বজনের বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়েছে। কিন্তু শিশুটির সন্ধান পাওয়া যায়নি। শিশুটিকে উদ্ধারে তৎপর রয়েছে সিআইডি পুলিশ বিভাগ।

খুলনার সোনাডাঙ্গা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমতাজুল ইসলাম বলেন, শিশু পাচার আইনে মামলাটি দায়ের হওয়ার পর পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করে। হঠাৎ করেই মামলাটি সিআইডিতে বদলি হয়। এরপরও পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধারে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।

/বিএল/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
পুষ্টিগুণে ভরপুর পাঁচমিশালি সবজি ঘণ্ট
পুষ্টিগুণে ভরপুর পাঁচমিশালি সবজি ঘণ্ট
একদিনে হামে আরও ৪ মৃত্যু
একদিনে হামে আরও ৪ মৃত্যু
ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নে মার্কিন চাপ মানছে না ওমান
ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নে মার্কিন চাপ মানছে না ওমান
বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে ইউজিসি-ইউএন উইমেন উদ্যোগ
বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে ইউজিসি-ইউএন উইমেন উদ্যোগ
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী