১৯৭৫ সালের পর থেকে বিভিন্ন কারণে সৃষ্ট মামলার জট রাতারাতি নিরসন করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেন, ‘আইনের শাসন নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ২০০৯ সালের ১ নভেম্বর বিচার বিভাগ আলাদা হওয়ার পর থেকে এজলাস সংকটের কারণে বিচারক, আইজীবী ও বিচার প্রার্থীদের ভোগান্তি শুরু হয়। তেমিন মামলার জট দিন দিন বাড়তে থাকে। এ সংকট নিরসনের জন্য বর্তমান সরকার প্রতিটি জেলায় ১০ তলাবিশিষ্ট চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করেছে।’
বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) বিকালে সাতক্ষীরা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন ও জেলা দায়রা জজ আদালত ভবনের সম্প্রসারিত ভবনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘তবে কি কারণে জটের সৃষ্টি হচ্ছে, সেগুলো চিহ্নিত করে তা খুব দ্রুত নিরসন হবে। আরও বিচারক নিয়োগ দেওয়া হবে।’
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বিচারকরা অন্যের বাড়িতে ভাড়া থাকলে একটু সমস্যা হয়। সেজন্য বিচারকদের আবাসনের ব্যবস্থা করবে বর্তমান সরকার। আজ থেকে নতুন ভবনে সাতক্ষীরার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের কার্যক্রম শুরু হলো। এই ভবন বিচারক, আইনজীবী ও আইন প্রার্থীদের। এই ভবন বিচারের ভবন। এটাকে রক্ষা করার দায়িত্ব সবার।’
এসময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক মন্ত্রী ডা. রুহুল হক এমপি, মীর মোস্তাক আহমেদ রবি এমপি, অ্যাডভোকেট মুস্তফা লুৎফুল্লাহ এমপি, জগলুল হায়দার এমপি, আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক, জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিন, জেলা পুলিশ সুপার মো. সাজ্জাদুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মুনসুর আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলামসহ অনেকে।
এর আগে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক নবনির্মিত সাতক্ষীরা চিফ জুডিশিয়াল আদালত ভবন উদ্বোধন করেন।
সাতক্ষীরা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এ কে এম ফজলুর রহমান জানান, সাতক্ষীরা কালেক্টরেট ভবনের দক্ষিণ পাশে বিলের মধ্যে ১.৭৫ একর জমিতে ভবনটি নির্মাণ করা হয়। এতে ৬৫ কোটি ১৩ লাখ ২৬ হাজার টাকা ব্যয় হয়। ১০ তলা বিশিষ্ট এ ভবন নির্মাণ কাজ শেষ করতে সময় লেগেছে তিন বছর। গণপূর্ত বিভাগ ও স্থাপত্য অধিদফতর এ ভবনের নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করে।








