তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেছেন, ‘রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র সুন্দরবন ও এ অঞ্চলের পরিবেশের জন্য মরণ কামড় এ বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। জলাবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণসহ বিভিন্ন কারণে এমনিতেই সুন্দরবন ও এ অঞ্চলের নদী-খাল-জলাশয়-বন-কৃষি-মৎস্য সর্বোপরি পরিবেশ হুমকির মুখে। তার ওপর রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র হবে মরার উপর খাড়ার ঘা। শুধুমাত্র পরিবেশ ও সুন্দরবনই নয়, এ প্রকল্প জাতীয় স্বার্থবিরোধীও বটে। কারণ সরকার ভারতের সঙ্গে যে চুক্তি করেছে, তা আত্মঘাতী ও লোকসানজনক।’
‘সুন্দরবন বিধ্বংসী রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র বাতিল কর’ স্লোগানকে সামনে রেখে কমিটির উদ্যোগে শুক্রবার (৯ মার্চ) বিকাল ৪টায় খুলনা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রামপালে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র হলে এ অঞ্চলের মানুষ বিদ্যুৎ পাবে- সরকারের এমন প্রচারের কথা উল্লেখ করে আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘এটি একটি অপপ্রচার। কারণ সব বিদ্যুৎ প্লান্টের উৎপাদিত বিদ্যুৎই জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়। সেখান থেকেই বিদ্যুৎ বণ্টন হয়। সুতরাং এ অঞ্চলের মানুষের বিশেষ কোনও সুবিধা পাওয়ার সুযোগ নেই। রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রকে ধরে যে সর্বনাশা শিল্প এলাকা গড়ে ওঠার ধুম পড়েছে, তাতে কিছু লোকের আপতদৃষ্টে কর্মসংস্থান হবে বলে মনে হলেও এর ফলে যে ক্ষতি হবে তাতে এ অঞ্চল থেকে ৪০-৫০ লাখ মানুষ কর্মসংস্থান হারাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সব প্রতিবাদ অগ্রাহ্য করে রামপালে তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ অব্যাহত রাখা হয়েছে। সরকার ইতোপূর্বে জাতীয় পরিবেশ কমিটির বৈঠকে সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় ৩২০টি গ্রুপকে কারখানা স্থাপন করার অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর বেশিরভাগই সুন্দরবনের ১০ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে। সরকারের তথাকথিত উন্নয়ন মডেল জনগণের গলার ফাঁসে পরিণত হয়েছে।’
জাতীয় কমিটির খুলনা জেলা শাখার আহ্বায়ক এস এ রশিদের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব মোস্তাফা খালিদ খসরুর সঞ্চালনায় বক্তৃতা রাখেন সিপিবির কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, ইউসিএলবির কেন্দ্রীয় সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য রণজিৎ চট্টোপাধ্যায়, সিপিবির কেন্দ্রীয় সদস্য ও খুলনা জেলা সভাপতি ডা. মনোজ দাশ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মনিরুল হক বাচ্চু, সিপিবি’র বরিশাল জেলা সভাপতি অ্যাড. এ কে আজাদসহ অনেকে।








