ময়মনসিংহের ভালুকায় বিস্ফোরণে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) চার ছাত্র মারা যায়। এই ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড বলছে কুয়েট। সেজন্য ইন্টার্ন করতে যাওয়া টেক্সটাইল মিলের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। শনিবার (৩১ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের এক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় কুয়েটের পক্ষ থেকে প্রত্যেক পরিবারকে মানবিক কারণে পাঁচ লাখ টাকা করে জরুরি সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়।
এদিকে চার শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) তিন দিনের শোক কর্মসূচি শনিবার থেকে শুরু হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আলমগীরের সভাপতিত্বে কুয়েটের সিন্ডিকেটের ৬০তম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় নিহতদের পরিবারের ইচ্ছা থাকলে প্রতি পরিবার থেকে একজন করে সদস্যকে শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়। ভবিষ্যতে ইন্টার্ন করার ক্ষেত্রে আগেই শিক্ষার্থীদের ইন্সুরেন্সের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় শোকাহত পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান বরাবর চিঠি পাঠনোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
২৪ মার্চ দিনগত রাত ১টায় ময়মনসিংহের ভালুকায় বিস্ফোরেরণ ঘটে। ঘটনার খবর পেয়ে ২৫ মার্চ আহতদের দেখতে ঢাকা মেডিক্যালের বার্ন ইউনিটে ছুটে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আলমগীর। ঢাকায় অবস্থানরত টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধানসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী এতদিন হাসপাতালে অবস্থান করে চিকিৎসার সব ধরনের সহযোগিতা নিশ্চিত করেন। কিন্তু সব চেষ্টা বিফল করে সকলকে চোখের জলে ভাসিয়ে চির বিদায় নিলো কুয়েটের মেধাবী চার শিক্ষার্থী।
দুর্ঘটনার ঠিক কারণ উদঘটানের জন্য বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় এর প্রতিনিধি, বিসিএসআইআর এর বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তা এবং এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমন্বয়ে ৭ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ইতোমধ্যে তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে। কমিটির সদস্যরা ২৮ মার্চ রাতে বার্ন ইউনিটে গিয়ে হৃদয়বিদারক ঘটনার মুখোমুখী হন এবং ২৯ মার্চ ময়মনসিংহের ভালুকায় মাস্টার বাড়ি এলাকায় অস্থায়ী বাসাটি পরির্দশন করেন।
কুয়েটের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শেষবর্ষের চার জন শিক্ষার্থী স্কয়ার গ্রুপের একটি টেক্সটাইল মিলে এক মাসের ইন্ডাস্ট্রিয়াল এটাচমেন্টের (ইন্টার্নি) জন্য যায়। তারা ময়মনসিংহের ভালুকার মাষ্টার বাড়ি এলাকার ছয় তলা ভবনের তৃতীয় তলা ভাড়া নেয়। ১০ মার্চ থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত সেখানে থাকার কথা। ২৪ মার্চ দিনগত রাত ১টায় বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই নিহত হয় মো. তৌহিদুল ইসলাম। গুরুতর দগ্ধ হয়ে ঢাকা মেডিক্যালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৮ মার্চ রাতে মো. শাহীন মিয়া, ২৯ মার্চ রাতে মো. হাফিজুর রহমান ও ৩০ মার্চ সকালে দিপ্ত সরকারের মৃত্যু হয়।








