নিহত চার ছাত্রের স্বজনদের জন্য ক্ষতিপূরণ বৃদ্ধির দাবিতে কুয়েটে অনশন

খুলনা প্রতিনিধি
৩১ মার্চ ২০১৮, ১৯:৪০আপডেট : ৩১ মার্চ ২০১৮, ১৯:৪৬

শিক্ষার্থীদের অনশন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) নিহত চার ছাত্রের পরিবার প্রতি ১ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দাবিতে অনশন শুরু করেছে শিক্ষার্থীরা। শনিবার (৩১ মার্চ) সিন্ডিকেট বৈঠক শেষ হওয়ার পর প্রশাসনিক ভবন ঘিরে শিক্ষার্থীরা এই অনশন শুরু করে। এর ফলে কুয়েটের উপাচার্যসহ সিন্ডিকেটের ৯ সদস্য অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।

ময়মনসিংহের ভালুকায় বিস্ফোরণে নিহত চার শিক্ষার্থীকে কেন্দ্র করে শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় প্রশাসনিক ভবনে সিন্ডিকেটের ৬০তম সভা শুরু হয়। এর আগে সকাল ১২টা থেকে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবন এলাকায় অবস্থান নেয়। দুপুর ৩টার দিকে সিন্ডিকেট সভা শেষ হয়।

সভায় নিহত ছাত্রদের পরিবার প্রতি ৫ লাখ টাকা করে দেওয়ার সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হন। তাৎক্ষণিকভাবে পরিবার প্রতি ১ কোটি টাকা করে দেওয়ার দাবিতে দুপুর সাড়ে ৩টায় টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করেন। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থীরাও অনশনে অংশ নেন। এর ফলে প্রশাসনিক ভবনে থাকা উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলমগীরসহ সিন্ডিকেট সভায় উপস্থিত থাকা সদস্যরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।

শিক্ষার্থীদের অনশন অনশনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘সেরা চার ছাত্রকে হারিয়ে আমরা বাকরুদ্ধ। তাদের চিকিৎসার জন্য প্রায় ৬ লাখ টাকা খরচ হয়েছে।  কুয়েট প্রশাসন মাত্র ৫০ হাজার টাকা দিয়েছে। বাকি টাকা কুয়েট শিক্ষার্থীসহ দেশ-বিদেশে অবস্থানরত সাবেক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। তারপরও তাদের বাঁচানো যায়নি। এখন একটাই দাবি, পরিবার প্রতি কুয়েট প্রশাসন ১ কোটি টাকা করে ৪ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেবে। ক্ষতিপূরণের এই টাকা রবিবার দুপুর ১টার মধ্যে কুয়েট প্রশাসনকে প্রতিটি পরিবারের মধ্যে বণ্টন করতে হবে। এই টাকা পরিবারের হাতে না যাওয়া পর্যন্ত অনশন অব্যাহত থাকবে। পাশাপশি রবিবার (১ এপ্রিল) দুপুর ১টার পর অনশন অব্যাহত রাখাসহ নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’

কুয়েটের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের  সাবেক জিএস ইয়াসির আরাফাত বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের দাবির ফলে শনিবার (৩১ মার্চ) জরুরিভাবে সিন্ডিকেটের সভা ডাকা হয়। সভায় সিন্ডিকেটের সদস্যরা পরিবার প্রতি ৫ লাখ টাকা ও প্রত্যেক পরিবারের একজন করে সদস্যকে যোগ্যতার ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। নিহতদের পরিবারের সদস্যরা খেটে খাওয়া মানুষ এবং দুই জনের বাবা নেই। তৌহিদের বাবা প্যারালাইজড। কুয়েটের এমন সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়েছে। তাদের প্রস্তাবিত দাবি পরিবার প্রতি ১ কোটি টাকা করে দিতে হবে। এই দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনশন অব্যাহত থাকবে। 

/এনআই/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
ঢাকায় ডেঙ্গুর চরম ঝুঁকিতে কোন ওয়ার্ড
ঢাকায় ডেঙ্গুর চরম ঝুঁকিতে কোন ওয়ার্ড
বিএসইসি’র নতুন চেয়ারম্যান মাসুদ খান, নিয়োগ পেলেন তিন কমিশনার
বিএসইসি’র নতুন চেয়ারম্যান মাসুদ খান, নিয়োগ পেলেন তিন কমিশনার
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে বাংলাদেশের বিজয়ে রাষ্ট্রপতির অভিনন্দন
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে বাংলাদেশের বিজয়ে রাষ্ট্রপতির অভিনন্দন
ইরানে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল: খামেনি
ইরানে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল: খামেনি
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের