খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) নিহত চার ছাত্রের পরিবার প্রতি ১ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দাবিতে অনশন শুরু করেছে শিক্ষার্থীরা। শনিবার (৩১ মার্চ) সিন্ডিকেট বৈঠক শেষ হওয়ার পর প্রশাসনিক ভবন ঘিরে শিক্ষার্থীরা এই অনশন শুরু করে। এর ফলে কুয়েটের উপাচার্যসহ সিন্ডিকেটের ৯ সদস্য অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
ময়মনসিংহের ভালুকায় বিস্ফোরণে নিহত চার শিক্ষার্থীকে কেন্দ্র করে শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় প্রশাসনিক ভবনে সিন্ডিকেটের ৬০তম সভা শুরু হয়। এর আগে সকাল ১২টা থেকে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবন এলাকায় অবস্থান নেয়। দুপুর ৩টার দিকে সিন্ডিকেট সভা শেষ হয়।
সভায় নিহত ছাত্রদের পরিবার প্রতি ৫ লাখ টাকা করে দেওয়ার সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হন। তাৎক্ষণিকভাবে পরিবার প্রতি ১ কোটি টাকা করে দেওয়ার দাবিতে দুপুর সাড়ে ৩টায় টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করেন। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থীরাও অনশনে অংশ নেন। এর ফলে প্রশাসনিক ভবনে থাকা উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলমগীরসহ সিন্ডিকেট সভায় উপস্থিত থাকা সদস্যরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
অনশনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘সেরা চার ছাত্রকে হারিয়ে আমরা বাকরুদ্ধ। তাদের চিকিৎসার জন্য প্রায় ৬ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। কুয়েট প্রশাসন মাত্র ৫০ হাজার টাকা দিয়েছে। বাকি টাকা কুয়েট শিক্ষার্থীসহ দেশ-বিদেশে অবস্থানরত সাবেক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। তারপরও তাদের বাঁচানো যায়নি। এখন একটাই দাবি, পরিবার প্রতি কুয়েট প্রশাসন ১ কোটি টাকা করে ৪ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেবে। ক্ষতিপূরণের এই টাকা রবিবার দুপুর ১টার মধ্যে কুয়েট প্রশাসনকে প্রতিটি পরিবারের মধ্যে বণ্টন করতে হবে। এই টাকা পরিবারের হাতে না যাওয়া পর্যন্ত অনশন অব্যাহত থাকবে। পাশাপশি রবিবার (১ এপ্রিল) দুপুর ১টার পর অনশন অব্যাহত রাখাসহ নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’
কুয়েটের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক জিএস ইয়াসির আরাফাত বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের দাবির ফলে শনিবার (৩১ মার্চ) জরুরিভাবে সিন্ডিকেটের সভা ডাকা হয়। সভায় সিন্ডিকেটের সদস্যরা পরিবার প্রতি ৫ লাখ টাকা ও প্রত্যেক পরিবারের একজন করে সদস্যকে যোগ্যতার ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। নিহতদের পরিবারের সদস্যরা খেটে খাওয়া মানুষ এবং দুই জনের বাবা নেই। তৌহিদের বাবা প্যারালাইজড। কুয়েটের এমন সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়েছে। তাদের প্রস্তাবিত দাবি পরিবার প্রতি ১ কোটি টাকা করে দিতে হবে। এই দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনশন অব্যাহত থাকবে।







