‘আমাদের যুগে আমরা যখন আকাশের তলে উড়িয়েছি শুধু ঘুড়ি, তোমরা এখন কলের লাঙল চালাও গগন জুড়ি’- কবি সুফিয়া কামালের লেখা ‘আজিকার শিশু’ কবিতার এই দুই লাইন মনে করিয়ে দেয়, শৈশবে ঘুড়ি উড়ানোর সেই আনন্দময় স্মৃতির কথা।
স্মৃতির কথা জানিয়ে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘শীতের শেষে বসন্তের আগমনে দখিনা মলয় হিল্লোলে প্রকৃতি যখন জেগে উঠতো, তখন গ্রামের বিলগুলোতে চলতো ঘুড়ি উড়ানোর প্রতিযোগিতা। প্রত্যেক কিশোরের হাতে থাকতো লাটাই ও সুতা। আকাশে উড়তো রঙিন ঘুড়ি। বিচিত্র নাম এসব ঘুড়ির। ডাকঘুড়ি, সাপঘুড়ি, মাছঘুড়ি, বাঙ্ঘুড়ি, মানুষঘুড়ি ও তারাঘুড়ি।’
ঘুড়ি বানানোর প্রক্রিয়া সম্পর্কে বলতে গিয়ে সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সারের বস্তা থেকে এক ধরনের পাতলা বুনন সুতো তুলে কিংবা বেত ও বাঁশের তৈরি বিশেষভাবে পাতলা চ্যাটা আর একটি ছড়ের সঙ্গে বিশেষভাবে বেঁধে ঘুড়ির সঙ্গে সংযুক্ত করার পর আকাশে উড়িয়ে দিলে ঘুড়ি থেকে সুরেলা শব্দ শোনা যেতো। এই ঘুড়িকে ডাক ঘুড়ি বলা হতো। ঘুড়ি বানানো হতো সিমেন্টের বস্তার কাগজ, কিংবা সাদা কাগজ অথবা রঙিন কাগজ দিয়ে। বাঁশপাতা কাগজ নামে এক ধরনের কাগজ তৈরি হতো, নতুন বইয়ের খাম লাগানো আর ঘুড়ি বানানোর জন্য। সেই ঘুড়ি ওড়ানো বিকালগুলো আজ হারিয়ে গেছে।’
হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যকে তুলে ধরে সাতক্ষীরা স্টেডিয়ামে বৈশাখী ঘুড়ি উড়ানো প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে তার সঙ্গে কথা হলে তিনি এসব কথা জানান।
শুক্রবার (১৩ এপ্রিল) বিকালে সাতক্ষীরা স্টেডিয়ামে পাঁচ দিনব্যাপী বৈশাখী উৎসবের অংশ হিসেবে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন জেলা প্রশাসক মো. ইফতেখার হোসেন। এসময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আব্দুল হান্নান, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক একে এম আনিছুর রহমানসহ জেলা ক্রীড়া সংস্থার নেতারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন পত্রদূতের উপদেষ্ঠামণ্ডলীর সদস্য শফিউল আলম খান।
ঘুড়ি উড়িয়ে প্রথম স্থান অধিকার করে শিশু হোসেন সরদার, আবির হোসেন ও সাইফুল ইসলাম।








