বরগুনায় চাঁদা দাবির অভিযোগে পৌর মেয়রসহ আট জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন অ্যাডভোকেট আবদুল আজিজ নামে এক ভুক্তভোগী। বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিবুল হাসান মঙ্গলবার (২৪ এপ্রিল) মামলটি গ্রহণ করে বরগুনা থানাকে তদন্তপূর্বক এজাহার রুজু করার আদেশ দিয়েছেন।
মামলার আসামিরা হলেন— বরগুনার পৌর মেয়র মো. শাহাদাৎ হোসেন এবং তার সমর্থক হানিফ, মোস্তফা, সেলিম, মোশাররফ, আবুল কালাম, রাসেল ও ওয়াজেদ আলী খা। আসামিরা বরগুনা পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের স্থায়ী বাসিন্দা।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, বাদী অ্যাডভোকেট আবদুল আজিজ মিয়া বরগুনা পৌরসভায় ৫ নম্বর ওয়ার্ডের জাহিদ স্মৃতি সড়কে ২০১৪ সালে তার ছেলে ও নাতির নামে কিছু জমি কেনেন। বরগুনা পৌরসভা থেকে চার তলা ভবনের নকশা অনুমোদন করিয়ে একতলা ভবন নির্মাণ করেছেন সেখানে। চলাচলের পথ না থাকায় আসামি সেলিম ও মোশাররফের বাড়ির মধ্য দিয়ে তাদের যাতায়াত করতে হয়। ২০১৫ সালের ১৫ জুলাই বাদীর কাছে হানিফ, মোস্তফা, সেলিম ও মোশাররফ রাস্তা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দেওয়ায় সেলিম ও মোশাররফ সীমানা প্রাচীর দিয়ে বাদীর চলাচলের পথ স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেন। এ বিষয়ে মেয়র শাহাদাৎ হোসেনের কাছে অভিযোগ দিয়েও কোনও সুরাহা হয়নি। পরে মেয়র বাদীকে চলাচলের জন্য একটি ড্রেন করে দেওয়ার কথা বললেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।
অ্যাডভোকেট আবদুল আজিজ মিয়া জানান, গত শুক্রবার (২০ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টার সময় মোস্তফার দোকানে সব আসামিকে পেয়ে বাদী সীমানা প্রচীর অপসরণের কথা বলেন। এ সময় আসামিরা বাদীর কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এই টাকা পেলে সীমানা প্রাচীর ভেঙে চলাচলের পথ করে দেওয়া হবে বলেও জানান তারা।
বাদী আবদুল আজিজ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এর আগে ২০১৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর চলাচলের পথ করে দেওয়ার জন্য মেয়রকে চেকের মাধ্যমে দেড় লাখ টাকা দিয়েছি। তারপরও মেয়র চলাচলের পথ করে দেননি।’
চাঁদা দাবি করার বিষয়টিকে মিথ্যা অভিহিত করে পৌর মেয়র মো. শাহাদাৎ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘টাকা আমি নেইনি। টাকা নিয়েছে আবদুল আজিজের প্রতিবেশী ইকবাল। আর আবদুল আজিজের প্রতিবেশীরা জমি না দেওয়ার কারণে রাস্তা করে দিতে পারিনি।’








