খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ভোটের লড়াই সংঘর্ষে রূপ নিচ্ছে। মনোনয়নপত্র দাখিলের শুরু থেকেই পরস্পরের বিরুদ্ধে আনা বিভিন্ন অভিযোগকে ঘিরে উভয়পক্ষের মধ্যে পরিবেশ ছিল উত্তপ্ত। যা ক্রমেই শীর্ষ পর্যায় থেকে তৃণমূলে ছড়িয়ে পড়ছে। অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের উত্তাপ সহিংসতায় রূপ নিচ্ছে।
পুলিশের ধর-পাকড়ের কারণে বৃহস্পতিবার (৩ মে) বিএনপির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু নির্বাচনি কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করেন। পাঁচ ঘণ্টা পর তিনি ফের ঘোষণা দিয়ে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেন। তবে গ্রেফতার করা কর্মীদের মুক্তি না দিলে এবং বিএনপির ৯ দফার বিষয়ে সুরাহা না হলে, আগামী ৬ মে খুলনায় অনুষ্ঠেয় সিইসি’র বৈঠকে অংশগ্রহণ না করার ঘোষণাও দিয়েছে বিএনপি।
এদিকে আওয়ামী লীগ অভিযোগ করেছে, বিএনপি পরাজয়ের ভয়ে আগেই মাঠ ছেড়ে পালানোর পথ খুঁজছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যে বৃহস্পতিবার রাতে মহানগরীর আলমনগরে মঞ্জুর গণসংযোগ চলাকালে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনার পর প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের কর্মীরা মুখোমুখি অবস্থানে চলে রয়েছেন। এর ফলে সুষ্ঠু নির্বাচন বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কিত নগরবাসীও।
বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান এজেন্ট ও জেলা সভাপতি অ্যাড. শফিকুল আলম মনা বলেন, ‘কেসিসি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা বিভিন্নভাবে বিএনপির কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টি করছেন। একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে নির্বাচনের মাঠে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড দরকার। কিন্তু নির্বাচন কমিশন খুলনায় এখনও সে অবস্থা সৃষ্টি করতে পারেনি। উপরন্তু, অকারণে বিএনপি নেতা-কর্মীদের গণগ্রেফতার করে নির্বাচনি কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে। তাই নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে বিএনপিসহ সচেতনমহল শঙ্কায় রয়েছে।’
আওয়ামী লীগের কেসিসি নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ও কেন্দ্রীয় নেতা এস এম কামাল হোসেন বলেন, ‘নৌকার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে বিএনপি নানা ধরনের ষড়যন্ত্র করার চেষ্টা করছে। বিএনপির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু একের পর এক মিথ্যাচার করে জনগণের আস্থা অর্জনের ব্যর্থ চেষ্টা করছেন। বিগত দিনে বিএনপির ব্যর্থতা সম্পর্কে নগরবাসী অবগত। তাই সাধারণ নাগরিকরা বিএনপির অপকৌশলের ফাঁদে পা দেবে না।’
কেএমপির অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া উইং-এর প্রধান) সোনালী সেন বলেন, ‘নির্বাচনকে ঘিরে পুলিশের কঠোর নজরদারি রয়েছে। যেকোনও পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। নির্বাচনকে কেউ প্রশ্নবিদ্ধ বা বাধাগ্রস্ত করতে সহিংসতার পথ বেছে নিলে কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।’
বুধবার দিনগত রাতে পুলিশের অভিযানে বিএনপির ২৩ নেতা-কর্মী গ্রেফতারের পর সৃষ্ট পরিবেশ নিয়ে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ পৃথক প্রেস ব্রিফিং করেছে। তাতে একে অন্যের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ করা হয়। সেই সঙ্গে দুই দলের নেতা-কর্মীদের মাঝে হামলা ও মামলার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
খুলনার নাগরিক নেতা অ্যাডভোকেট কুদরত ই খুদা বলেন, ‘নির্বাচনের শুরু থেকেই আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বাকযুদ্ধ উত্তাপ ছড়াতে থাকে। যা নির্বাচনি প্রেক্ষাপটে স্বাভাবিকই ছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার হঠাৎ করেই পাল্টে গেছে সেই পরিবেশ। এখন প্রশাসনের পক্ষে নির্বাচনের পরিবেশ রক্ষা করা চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। যা নগরবাসীর জন্য ভাবনার অন্যতম কারণে পরিণত হয়েছে।’
বৃহস্পতিবার রাতে আলমনগরে দুই দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের আট জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগ কর্মী আব্দুল হান্নান বাদী হয়ে বিএনপির ১১ নেতা-কর্মীর নামে খালিশপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় হান্নান অভিযোগ করেন, বিএনপি নেতাকর্মীরা প্রচারণার সময় তাকে মারধর ও নৌকা প্রতীক ভাঙচুর করেছে।
মহানগর বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক ফখরুল আলম বলেন, ‘গণসংযোগ চলাকালে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ মিছিল বের করে বিএনপির গণসংযোগে চড়াও হয়। এ সময় বিএনপির সাত কর্মী আহত হন। পুলিশ সবই জানে। কারণ, তারাই পরিস্থিতি শান্ত করেছে। নির্বাচনি প্রচারণায় ব্যস্ততার কারণে তারা আইনি পদক্ষেপ নিতে বিলম্ব করছেন। বিএনপি অবশ্যই এ ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেবে।’








