মেঘলার বয়স যখন ৪ বছর তখন তার বাবা মারা যায়। ছোট্ট মেঘলাকে দাদির কাছে দিয়ে মা অন্যত্র ঘর বাঁধেন। দাদির কাছেই তার বেড়ে ওঠা, পড়লেখা। সেদির সেই ছোট্ট মেঘলা এবার জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। তবে অর্থাভাবে লেখাপড়া সামনে এগিয়ে যাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছে মেঘলা।
মেঘলা খাতুনের (১৩) বাড়ি কুষ্টিয়ার কুমারখালি উপজেলার ছেঁউড়িয়া মণ্ডলপাড়া এলাকায়। মিলপাড়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এবার সে এসএসসি পাস করেছে। অর্থাভাবের মধ্যেও প্রবল ইচ্ছা শক্তি আর মেধার জোরেই ভালো ফল করেছে সে।
অনেক চড়াই-উতরাইয়ের পরও দমে যায়নি মেঘলা। দরিদ্র পরিবারের এই অদম্য মেধাবী একের পর এক সাফল্য পেয়েছে। ২০১২ সালে পিএসসি পরীক্ষায় ছেঁউড়িয়া জয়নাবাদ মণ্ডলপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পায় সে। ২০১৫ সালে জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে সাফল্যের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখে মেঘলা। তবে এত ভালো ফলাফলের পরেও তার পরিবার চিন্তিত।
মেঘলার দাদি আলেয়া খাতুন বলেন, ‘মেঘলার দাদা পিডিবি’র লাইনম্যন অবস্থায় অবসর গ্রহণ করেছেন। পরিবারে এখন উপার্জনক্ষম কেউ নেই। পেনশনের টাকা দিয়ে কোনও মতে সংসার চলে। আমাদের আর আয়ের কোনও উৎস নেই। কীভাবে মেঘলার পড়ালেখার খরচ চালাবো তাই নিয়ে দুশ্চিন্তাই আছি।’
তিনি আরও জানান, ‘যদি কোনও সহযোগিতা পাওয়া যেত তাহলে মেঘলার পড়ালেখাটা চালাতে পারতাম।’
মেঘলার ইচ্ছা ডাক্তার হাওয়ার। সে বলে, ‘আমি সবার দোয়া ও সহযোগিতা চাই। সেই সঙ্গে আমি উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দরিদ্র মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। পড়ালেখা করে আমি ডাক্তার হতে চাই।’








