কুষ্টিয়ায় ছাত্রলীগ নেতা নিহত হওয়ার ঘটনা নিয়ে ধূম্রজাল

কুদরতে খোদা সবুজ, কুষ্টিয়া
৩১ মে ২০১৮, ১০:৪৬আপডেট : ৩১ মে ২০১৮, ১০:৪৬

নাজমুল আলম কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি নাজমুল আলম (২৯) নিহত হওয়ার ঘটনা নিয়ে ধূম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার মাত্র তিনদিন আগে তিনি বিয়ে করেন। তার সঙ্গে দলের কারও কোন্দল বা শত্রুতাও ছিল না। সে ক্ষেত্রে কী কারণে, কারা তাকে হত্যা করতে পারে, তা বোঝা যাচ্ছে না। পুলিশও এই ব্যাপারে কোনও তথ্য দিতে চাইছে না।
মঙ্গলবার (২৯ মে) রাত তিনটার দিকে সদর উপজেলার হাটশ-হরিপুর ইউনিয়নের হরিপুর ফারাজীপাড়ার নিজ ঘরে গুলিবিদ্ধ হয় নাজমুল। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি বন্দুকের গুলি উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে নিহতের লাশ হস্তান্তর করা হয়।
নিহত নাজমুলের ছোট বোন সালমা খাতুন বলেন, রাত ৩টার দিকে শব্দ শুনে ভাইয়ের ঘরের দিকে যাই। সেসময় ভাইয়ের ঘরের দরজা খোলা ছিল। ঘরে ঢুকে দেখি ভাবি পেছনে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে আর ভাইয়ের রক্তাক্ত দেহটি পড়ে আছে বিছানার ওপর।
নিহত নাজমুলের স্ত্রী উর্মি বলেন, নাজমুল রাত ১১টার দিকে ঘর থেকে বের হয়ে যায়। পরে আমি ঘুমিয়ে পড়ি। রাত ৩টার দিকে হঠাৎ আমার সামনে নাজমুলের রক্তাক্ত লাশ পড়ে থাকতে দেখি।
তিনি আরও বলেন, পরে আমি দেখতে পাই আমার হাতের একটি আঙুল কেটে গেছে। তবে কীভাবে কেটেছে তা নিশ্চিত করে বলতে পারেনি সে। উর্মির আঙুলে এখন দুটি সেলাই দেওয়া হয়েছে।
নিহতের বাবা মো. আলতাফ হোসেন বলেন, ‘শুক্রবার মেয়ে দেখার পর রবিবার দুই পরিবারের সম্মতিতে ছেলের বিয়ে হয়। মঙ্গলবার স্ত্রীকে নিয়ে নাজমুল তার শশুর বাড়ি বেড়াতে যায়। পরে তারা বাড়ি ফিরে এলে রাত ১০টার দিকে শুয়ে পড়তে দেখি।’ তবে কখন নাজমুল ঘরের বাইরে যান তা তিনি বলতে পারেননি।
আলতাফ হোসেন আরও বলেন, ‘প্রায় দুই বছর আগে স্থানীয় বাজারে একটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। সেসময় নাজমুলের বিরুদ্ধে একটি অস্ত্র আইনে মামলা হয়। পরে আমার ছেলে আদালতে আত্মসমর্পণ করলে কয়েকদিন পরে জামিনে বেরিয়ে আসে। তবে এলাকায় তার কোনও শত্রু নেই।’
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নাজমুল ২০১৫ সালে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ থেকে ব্যবস্থাপনা বিষয়ে স্নাতকোত্তর পাস করেন। তবে তিনি কোনও চাকরি বা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না।
নাজমুল জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। দুই ভাই ও তিন বোনের মধ্যে নাজমুল ছিলেন সবার বড়। গত রবিবার পারিবারের সম্মতিতে শহরের কানাবিল এলাকায় ঊর্মি নামে এক মেয়েকে বিয়ে করেন তিনি।
এ বিষয়ে স্থানীয় হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সম্পা মাহামুদ বলেন, ‘নাজমুলের বিরুদ্ধে আমার ইউনিয়ন পরিষদে কোনও অভিযোগ ছিল না। ছেলে হিসেবে সে ভালোই ছিল। তবে সে মাদকসেবন করতো বলে শুনেছি।’
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নাজমুল হত্যার বিষয়ে এখনও কোনও রহস্য উৎঘাটন হয়নি। ঘটনাস্থল থেকে একটি বন্দুকের গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।’

/এআর/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম