‘তদন্তের পর মাদক ব্যবসায়ে সম্পৃক্ত পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা’

খুলনা প্রতিনিধি
০১ জুন ২০১৮, ১৭:৩৩আপডেট : ০১ জুন ২০১৮, ১৭:৪৩

  পুলিশ দেশব্যাপী মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে খুলনা বিভাগের ১০ জেলার ৯টিতে এ অভিযান চলছে। গত ১০ দিনে অভিযানে ৩৫ ‘মাদক ব্যবসায়ী’ নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ। আবার মাদক বিক্রেতাদের হাতে পুলিশ সদস্য প্রহৃত হওয়ারও ঘটনাও ঘটেছে। এ অবস্থায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ থাকা পুলিশ সদস্যদের ব্যাপারে তদন্ত করছে খুলনা পুলিশ। তদন্তের পর অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া পুলিশ সদস্যর বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) অতিরিক্ত উপ-কমিশনার ও মিডিয়া উইংয়ের প্রধান সোনালী সেন বলেন, ‘অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেলে পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হবে।’ তদন্ত দ্রুত সময়ের মধ্যে শেষ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

খুলনা জেলা পুলিশ সুপার এস এম শফিউল্লাহ বলেন, অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। বিভিন্ন মাধ্যম থেকে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এরই মধ্যে ফুলতলা থানার এএসআই  মোস্তাফিজকে বদলি করা হয়েছে। প্রমাণ পেলে সেই তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশীদ বলেন, ‘অভিযুক্ত দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে খোঁজখরব নেওয়া হচ্ছে। মাদকের সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

কেসিসি’র নবনির্বাচিত মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, ‘তালিকায় নাম থাকলেই আমরা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারি না। সুনির্দিষ্ট প্রমাণ সাপেক্ষে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তালিকায় নাম থাকা দলীয় নেতাকর্মীদের মাদক সম্পৃক্ততার বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।’

সম্প্রতি প্রকাশ করা তালিকা থেকে জানা গেছে, জেলা ৯ উপজেলায় মাদক ব্যবসায়ী ১১৮ জন, আশ্রয়-প্রশ্রয়দানকারী ১২ জন।  মাদক ব্যবসার সঙ্গে ১২ পুলিশ সদস্যের জড়িত রয়েছে। কেএমপি’র ৮টি থানা এলাকার সরাসরি মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িত ১৫৪ জন, আশ্রয়-প্রশ্রয়দানকারী হিসেবে ৫০ জন রয়েছে। এর মধ্যে ২২ জন পুলিশ সদস্যের নাম রয়েছে।  এছাড়া আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও অঙ্গ সংঠনের নেতাকর্মী ও সমর্থকের নামও রয়েছে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজন’র জেলা সম্পাদক কুদরত-ই-খুদা বলেন, মাদক বিক্রেতা ও তাদের সহায়তাকারীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের এই অভিযান বিতর্কিত হতে পারে। এছাড়াও অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার। নতুবা মাদক নির্মূল কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

 

 

/এসটি/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম