মাগুরা সদর উপজেলার পৌর ভূমি সহকারী কর্মকর্তা উজ্জল মিয়ার বিরুদ্ধে ভূমি রাজস্ব আদায়ের ১২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সম্প্রতি জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল মাগুরা সদর উপজেলার পৌর ভূমি অফিস পরিদর্শনে গিয়ে এই অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র যায়, মাগুরা সদর উপজেলার পৌর ভূমি সহকারী কর্মকর্তা উজ্জল মিয়ার বিরুদ্ধে জনগণকে সেবা প্রদানে হয়রানি ও ঘুষ দাবির অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে তার ওপরে ক্ষুব্ধ সেবাগ্রহণকারীরা। এ নিয়ে সেবাগ্রহণকারীদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩ মে মাগুরার জেলা প্রশাসক আতিকুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আক্তারুন্নাহার এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) মৌসুমী জেরিন কান্তাকে সঙ্গে নিয়ে পৌর ভূমি অফিস পরিদর্শনে যান। পরিদর্শনকালে তারা উজ্জলের বিরুদ্ধে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ভূমি উন্নয়ন থেকে মোট রাজস্ব আদায়ের মধ্যে ১২ লাখেরও বেশি টাকা আত্মসাৎ, সেবা নিতে আসা মানুষদেরকে হয়রানি ও ঘুষ দাবি, দুই শতাধিক নামজারি মামলা পেন্ডিং রাখা, কর্মকর্তার প্রত্যায়ন ছাড়া নামজারি মামলার রেজিস্ট্রার সংরক্ষণসহ ব্যাপক অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যান।
সূত্রটি আরও জানিয়েছে, এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে ইতোমধ্যেই উজ্জলকে মাগুরা সদর উপজেলা ভূমি অফিস থেকে ’স্ট্যান্ড রিলিজ’ করে শ্রীপুর উপজেলায় বদলি করা হয়েছে।
পৌর ভূমি অফিস পরিদর্শনকালে দেখা গেছে যে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরের ৩০ এপ্রিল ২০১৮ পর্যন্ত ভূমি উন্নয়ন রাজস্ব আদায় ২৯ লাখ ৬৪ হাজার ৫৪৬ টাকা দেখানো হয়েছে। কিন্তু এর বিপরীতে চালানের মাধ্যমে জমা দেখানো হয়েছে ২৩ লাখ ৭৭ হাজার ৭৩০ টাকা। আবার ২৯ মার্চ পর্যন্ত ভূমি উন্নয়ন রাজস্ব আদায় দেখানো হয়েছে ২৮ লাখ ৭৬ হাজার ২৯২ টাকা। কিন্তু ভূমি উন্নয়ন রাজস্ব আদায় সম্পর্কিত ট্রেজারি চালান, চালান রেজিস্ট্রার এবং পাস বই মিলিয়ে দেখা গেছে যে, উল্লিখিত আদায় করা রাজস্বের মধ্যে মাত্র ১৬ লাখ ৪২ হাজার ৬৪৮ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হলেও বাকি ১২ লাখ ৩৩ হাজার ৬৪৪ টাকার কোনও হদিস নেই।
উল্লেখ্য, মাগুরায় কর্মরত থাকা অবস্থায় উজ্জল মিয়া রশিদ দিয়ে ভূমি উন্নয়ন রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রেও নানা ধরনের কারচুপির আশ্রয় নিয়ে সরকারি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
উজ্জল মিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আক্তারুন্নাহার বলেন, ‘ভূমি সম্পর্কিত সেবাগ্রহণকারীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে উজ্জল মিয়াকে তাৎক্ষণিক শ্রীপুর উপজেলায় বদলি করা হয়। এরপর জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে পরিদর্শন শেষে উজ্জলের বিরুদ্ধে সেখানকার অনিয়ম ও দুর্নীতি সম্পর্কিত একটি প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়া হয়েছে।’
এ বিষয়ে সাবেক মাগুরা সদর উপজেলার পৌর ভূমি সহকারী কর্মকর্তা উজ্জল মিয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমার কাছে যা টাকা ছিল, ইতোমধ্যে তা পরিশোধ করে দিয়েছি।’
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. আতিকুর রহমান বলেন, ‘সরকারি টাকা কারও পকেটে যাওয়ার সুযোগ নেই। এটি সরকারি কোষাগারেই জমা দিতে হবে। সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে সেই টাকা নিজের কাছে রাখা অবৈধ ও বেআইনি। ’








