কুষ্টিয়ায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যমতে, এই মৌসুমে কুষ্টিয়ায় পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১১ হাজার ২০ হেক্টর। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে চাষ হয়েছে ১১ হাজার ১২০ হেক্টর।
কুষ্টিয়া কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তামো. সেলিম হোসেন বলেন, ‘এবার পোঁয়াজের উৎপাদন বেশ ভালো হয়েছে।’
কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের পেঁয়াজ চাষি আকাশ বিশ্বাস জানান, গত বছর অল্প কিছু জমিতে পেঁয়াজের চাষ করেছিলেন। ভালো দাম পাওয়ায় এ বছর তিনি দেড় বিঘা জমিতে পেঁয়াজের চাষ করেছেন। তবে, বর্তমানে সার ও বীজসহ পেঁয়াজের উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। এসবের দাম কম থাকলে লাভ আরও বেশি হতো।
কুষ্টিয়া সদর উপজেলার জিয়ারখী ইউনিয়নের নুরপুরের পেঁয়াজ চাষি ইয়াকুব আলী মোল্লা বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় এবছর ফলন বেশি হয়েছে। এবছর যেমন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়তে হয়নি, তেমনি রোগ-বালাইর আক্রমণও কম ছিল।’ একই ইউনিয়নের মোনাখালির উজ্জল জোয়াদ্দার বলেন, ‘এতদিন পেঁয়াজের ক্ষেতে তেমন রোগ বা বালাইয়ের আক্রমণ দেখা যায়নি। রোগ ও পোকার আক্রমণ থেকে পেঁয়াজ রক্ষার কৌশল হিসেবে সব সময় আগাম ব্যবস্থাপনা নেওয়া হয়েছে।’ কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার চরভবানীপুরের কৃষক দুলাল প্রামাণিক বলেন, ‘প্রতিবছরই আমি পেঁয়াজের চারা দিয়ে এভাবেই বাজারে বিক্রি করি। এবারের আবহাওয়া ও স্থানীয় বাজারে চড়া দাম থাকায় বেশ ভালোই লাভ হয়েছে।’ একই এলাকার কৃষক মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘পেঁয়াজ চাষ অধিক লাভজনক। এক বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করতে একজন কৃষকের ব্যয় হয় প্রায় সাড়ে ১৬ হাজার টাকা। তবে, ফলন ভালো হলে এক বিঘা জমিতে কমপক্ষে ৩৫ হাজার টাকার পেঁয়াজ উত্তোলন করা সম্ভব।’ কৃষক রেজা আহম্মেদ বলেন, ‘বাজারে পেঁয়াজের চাহিদা ও উচ্চ দাম থাকায় পেঁয়াজ আবাদ করে কৃষকরা লাভবান হচ্ছে। ফলে এবার চাহিদার চেয়েও বেশি পেঁয়াজ আবাদ করেছে কৃষকরা।’








