নাশকতার প্রস্তুতি ও পরিকল্পনার মামলায় যশোর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু এবং নগর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র মারুফুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। জেলার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. বুলবুল আহমেদ শুক্রবার (১৫ জুন) দুপুরে এই আদেশ দেন। যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট দেবাশীস দাস বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৪ জুন) বিকালে শহরের আরএন রোড এলাকার মার্কেন্টাইল ব্যাংকের সামনে থেকে তাদের দুজনকে আটক করা হয় বলে দাবি করে পুলিশ। পরে ওইদিন বিকালে কোতোয়ালি থানার এসআই মো. নুর-উন-নবী বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে নাশকতার প্রস্তুতি ও পরিকল্পনার মামলা দায়ের করেন।
এসআই মো. নুর-উন-নবী বলেন, ‘বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শহরের আরএন রোড এলাকার মার্কেন্টাইল ব্যাংকের সামনে গিয়ে দেখি, অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, মারুফুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম, মোস্তফা আমির ফয়সালসহ ৪১জন এবং অজ্ঞাত আরও ১৫-২০ জন সেখানে অবস্থান করছেন। তাদের কাছে লাঠিসোটা, হাতবোমাসহ মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্র ছিল। পরে সেখান থেকে তাদের আটক করি।’
তিনি আরও বলেন, ‘মারুফের হাতে থাকা বাজার করা প্লাস্টিকের ব্যাগ থেকে ৫০০ গ্রাম জালের কাঠি, ৫০০ গ্রাম কাচের গুলি এবং ১৭টি জর্দার খালি কৌটা উদ্ধার করা হয়। তারা নাশকতার উদ্দেশ্যে সেখানে অবস্থা করছিলেন। বিএনপির কয়েকজন নেতা এবং তাদের সমর্থক কয়েকজন ব্যবসায়ী নাশকতার জন্যে তাদের অর্থ দিয়েছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি।’
শুক্রবার (১৫ জুন) দুপুরে আদালতে যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র মারুফুল ইসলামের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, ‘১৪ই জুন জেলা প্রশাসকের কাছে আমাদের স্মারকলিপি দেওয়ার কথা ছিল। বিষয়টি পুলিশ জানতে পেরে তা নিয়ে নানা প্রশ্ন তোলেন। এরই ফাঁকে যুবদলের কর্মীরা শহরে মিছিল বের করেন। সে কারণে পুলিশ ক্ষিপ্ত ছিল। ওই দিন বিকালে সরকারি মাইকেল মধুসূদন মহাবিদ্যালয় (এমএম কলেজ) ছাত্রদলের উদ্যোগে দুঃস্থদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণের সময় সাদা পোশাকধারী কয়েকজন পুলিশ আমাদের নিয়ে যায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ভাবছিলাম কর্মসূচির বিষয়ে হয়তো কথা হবে। কিন্তু তারা প্রাইভেটকারে চড়িয়ে গোটা শহর আমাদের বিনা কারণে ঘোরায়। এরপর আমাদের নিয়ে যাওয়া হয় পুলিশ লাইনসের ভেতরে ডিবি কার্যালয়ে। সেখান থেকে রাত ১টার পরে নেওয়া হয় কোতোয়ালি থানায়। পরে জানতে পারি, নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে আরএন রোড থেকে আমাদের আটক করা হয়েছে।’
যশোর নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুনির আহমেদ সিদ্দিকী বাচ্চু বলেন, ‘সাবেরুল হক ও মারুফুল ইসলাম তাদের নামে থাকা রাজনৈতিক মামলাগুলোতে জামিনে আছেন। ঈদের আগ মুহূর্তে এমন কর্মসূচি থেকে নেতাদের ধরে নিয়ে যাওয়া খুবই দুঃখজনক।’
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘যেখানেই আমাদের কর্মসূচি দেখছে, পুলিশ বিনা কারণে সেখান থেকে নেতাকর্মীদের আটক করছে। এতেই বোঝা যাচ্ছে সরকার কতোটা ভীত, ছায়াকেও ভয় পাচ্ছে।’
উল্লেখ্য, গত ১৪ জুন বিকালে যশোর শহরের মুজিবসড়কে জিলা স্কুলের প্রধান গেটের সামনে ঈদ উপলক্ষে দুঃস্থদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করছিলেন সাবেরুল হক সাবু ও মারুফুল ইসলাম। ওই সময় সাদা পোশাকধারী পুলিশের কয়েকজন সদস্য তাদের সেখান থেকে তুলে নিয়ে যান। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে তা অস্বীকার করা হয়।








