ঠিকাদারের দুর্নীতির তথ্য ফাঁস করায় খুলনা আবু নাসের হাসপাতালের আউট সোর্সিংয়ের চার কর্মচারীকে বরখাস্ত করা হয়েছে। রবিবার (১ জুলাই) হাসপাতালের হাজিরা খাতা থেকে তাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে হাসপাতালের কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এর আগে শনিবার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টিফোরএস ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট লিমিটেডের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে আউট সোর্সিং কর্মচারীরা।
চাকরি হারানো কর্মচারীরা হচ্ছেন- হাসপাতালের কর্মচারী কল্যান সংস্থার সভাপতি ইসিজি বিভাগে কর্মরত আপেল মাহমুদ, সংস্থার সহ-সভাপতি অপারেশন থিয়েটারের আয়া আকলিমা বেগম, দফতর সম্পাদক ওয়েটিং রুমে কর্মরত সাবিনা ইয়াসমীন ও সংস্থার সহ-সাধারণ সম্পাদক বহির্বিভাগে কর্মরত ফারুক হোসেন।
হাসপাতালের পরিচালক ডা. বিধান চন্দ্র গোস্বামী বলেন, ‘আউট সোর্সিং কর্মচারীরা ঠিকাদারের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত। বিধি অনুযায়ী তাদের বেতন-বোনাস দেওয়ার জন্য ঠিকাদারকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।’ চাকরি থেকে বহিষ্কৃতদের ব্যাপারে ঠিকাদারদের সঙ্গে আলাপ করা হবে বলে জানান তিনি।
ঠিকাদার মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘কর্মচারীরা যেসব অভিযোগ করছেন তা সঠিক নয়। এখান থেকে যে টাকা আয় হয় তা আমরা ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের কয়েকজন ভাগাভাগি করে নেই।’
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালে অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত পরিপত্র অনুযায়ী হাসপাতালে আউট সোর্সিং হিসেবে কর্মরতদের ১৬ হাজার ১১৫ টাকা বেতন দেওয়ার কথা। কিন্তু তাদেরকে প্রতি মাসে সাড়ে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা দেওয়া হয়। ৮ বছরে ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে ঠিকাদারের দুর্নীতির সঙ্গে হাসপাতালের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জড়িত রয়েছে বলে অভিযোগে জানা গেছে। তাদের সঙ্গে আঁতাত করেই ঠিকাদার নিজের খেয়াল-খুশি কর্মচারীদের ওপর নির্যাতন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
রবিবার কর্মচারীরা এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তাদের কিছুই করার নেই বলে জানিয়ে দেয়। কর্মচারীরা অভিযোগ করেন, প্রতি মাসে তাদের বেতনের বড় একটি অংশ ঠিকাদার-স্থানীয় প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে ভাগাভাগি হয়। এসব কারণে গত তিন বছর কোনও ধরনের টেন্ডার ছাড়াই এই ঠিকাদার আউট সোর্সিংয়ে জনবল নিয়োগের কাজ করছেন।








