বুধবার সৌদি আরবের জেদ্দায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস শাহ আলমের মৃত্যুতে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে তার পরিবার ও সন্তানের ভবিষ্যৎ। বাড়িতে নেমেছে শোকের ছায়া। পরিবারের একমাত্র চালিকাশক্তিকে হারিয়ে সবাই এখন দিশেহারা। শোকে পাথর হয়ে গেছে তার গোটা পরিবার।
ইউপি সদস্য সেলিমুজ্জামান জানান, শাহ আলম (২৪) মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার দেউলি গ্রামের সায়েন উদ্দিন মোল্যার ছেলে। তার বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী ও শহিদুল ইসলাম আকাশ নামে ২ বছরের একটি শিশু সন্তান রয়েছে।
শাহ আলমের স্ত্রী আম্বিয়া খাতুন জানান, ধার-দেনা ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ১০ মাস আগে সৌদিতে যান তার স্বামী। বুধবার বিকালে সৌদি থেকে এক আত্মীয়ের মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানতে পারেন দুর্ঘটনার খবর। আগের দিন জানিয়েছিল আগামী মাসে বাড়িতে টাকা পাঠাবে। বড় আশা ছিল লোকজনের ধার-দেনা শোধ করব। পরিবারের লোকজন নিয়ে সুখে -শান্তিতে দিন কাটাব। আমার সব শেষ হয়ে গেছে।
শাহ আলমের মা হুরিয়া বেগম নাবালক নাতিকে কোলে নিয়ে বসে আছেন। তিনি বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন।
বাবা সায়েন উদ্দিন মোল্যা জানান, পরের জমিতে থাকেন। সমিতি থেকে লোন ও ধার-দেনা করে অনেক কষ্ট করে ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছেন। এখনও পর্যন্ত টাকা পাঠায়নি। এর মধ্যে মৃত্যুর খবর। এ দেনা পরিশোধ করার মতো ক্ষমতাও তার নেই। আমার ভিক্ষা করা ছাড়া আর কোনও উপায়ই থাকলনা।
সরকারের মাধ্যমে দ্রুত মৃতদেহ ফিরে পাওয়ার দাবি জানিয়েছে পরিবার ও স্বজনরা।
জেলা প্রশাসক আতিকুর রহমান নিহত শাহ আলমের পরিবারের প্রতি শোক ও সমবেদনা জানিয়ে বলেন, ‘নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন পাওয়া সাপেক্ষে মরদেহ আনার বিষয়ে যথাযথ সহযোগিতা করা হবে।’
অন্যদিকে, এ ঘটনায় আহত হয়েছে মাগুরা সদর উপজেলার ভায়না দক্ষিণ পাড়া গ্রামের মৃত দুদু শেখের ছেলে এলাহি শেখ। তাদের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আহত এলাহী চিকিৎসাধীন আছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেছেন।








