খুলনায় চামড়া ব্যবসায়ীরা সন্তুষ্ট, বিক্রেতারা হতাশ

খুলনা প্রতিনিধি
২৩ আগস্ট ২০১৮, ১১:৫২আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০১৮, ১২:০৮


চামড়া ব্যবসায়ী খুলনার চামড়া ব্যবসায়ীরা গত বছরের চেয়ে এবার এক তৃতীয়াংশ কম দামে চামড়া পাওয়ায় সন্তুষ্ট। প্রত্যাশা অনুযায়ী দাম না পাওয়ায় বিক্রেতারা হতাশ। তবে সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে চামড়া পাচারের শঙ্কায় আছেন ব্যবসায়ীরা। যদিও মৌসুমী ব্যবসায়ীরা সক্রিয়।
শেখপাড়া চামড়া পট্টির মামুন লেদার কমপ্লেক্সের মালিক শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এবার চামড়ার দাম অনেক কম আছে। এ সুযোগে সাতক্ষীরা ও যশোরের কিছু ব্যাপারী খুলনায় এসে চামড়া কিনেছেন। যা পাচার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যশোরের ব্যাপারীরা যশোর ট্যানারিতে চামড়া দেবেন। কিন্তু সাতক্ষীরা ৫-৭ জন ব্যাপারী যে চামড়া কিনবেন তা পাচারের আশঙ্কা রয়েছে। কারণ সাতক্ষীরা থেকে যশোর নিতে যে খরচ পড়বে, তার চেয়ে কম খরচে সীমান্ত পার করে বেশি দামে বিক্রি করতে পারবেন তারা।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ অবস্থার পরও এবার বেশি চামড়া পাওয়া গেছে। ফুলতলার সুপার ট্যানারি চামড়া না কেনায় বেশি পাওয়া যায় না। কারণ গত ২ বছরের চামড়া তাদের মজুদ রয়েছে। ফলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এ বছর বেশি চামড়া পেয়েছেন। তিনি গত বছর দেড় হাজার চামড়া কিনেছিলেন। আর এবার ২ হাজার পার হয়ে গেছে। এখনও অনেকটা সময় আছে। এ সময়ে আরও ৫-৭শ’ চামড়া কিনতে পারবেন।’
চামড়া ব্যবসায়ী বিকাশ দাস বলেন, এ বছর সরকারের বেঁধে দেওয়া দাম ২০-২৮ টাকা ফুট হিসেবে চামড়া কেনা হচ্ছে। ফলে এবার কম পুঁজিতে বেশি চামড়া কেনা যাচ্ছে। তিনি এ পর্যন্ত আড়াই হাজার চামড়া কিনেছেন। বাকি সময়ে আরও ৫-৭শ’ চামড়া কিনতে পারবেন। গত বছর তিনি দেড় হাজার পিস চামড়া কিনেছিলেন।
আইয়ুব লেদার এবার ৩ হাজারের ওপরে চামড়া পেয়েছেন। গত বছর চামড়া পেয়েছিলেন মাত্র ১২শ’ পিস। 
খুলনার রূপসা সেতু সংলগ্ন মারকাজুল উলুম মাদ্রাসার শিক্ষা সচিব মানজুর আহমদ বলেন, তার মাদ্রাসা থেকে এ বছর ৪৩৭ পিস গরুর ও ১৪০ পিস ছাগলের চামড়া সংগ্রহ করতে পেরেছে। যা যশোরের ট্যানারিতে সরাসরি বিক্রি করেছেন। ট্যানারি থেকে গরুর চামড়া বড়টা ৫৭৫ টাকা ও ছোটটা ২০০ টাকা দর দিয়েছে। গত বছর এই চামড়া ১৬শ’ টাকা দরে বিক্রি করেছিলেন। আর স্থানীয় বাজারে চামড়ার দাম আরও কম। 
মৌসুমী ব্যবসায়ী সুকুমার বোস বলেন, তিনি বড় বাজারের মহাজনদের দেওয়া কোরবানির চামড়া কিনে বিক্রি করে থাকেন। এ বছর চামড়া কিনে তিনি লোকসানের মুখে পড়েছেন। গত বছরের হিসেবে এবার তিনি চামড়া কিনেছিলেন। কিন্তু বাজার সম্পর্কে কোনও ধারণা ছিল না। তাই এ বছর চামড়ায় তিনি সুবিধা করতে পারেননি। গত বছর একটি বড় গরুর চামড়ায় ২৫শ’ টাকা পেয়েছিলেন। কিন্তু এ বছর ৯০০ টাকাও দিতে চাচ্ছে না। চামড়া তিনি মজুদও করতে পারছেন না। তাই, বাধ্য হয়ে লোকসান দিয়েই চামড়া বিক্রি করতে হচ্ছে।

 

/এসটি/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম