দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম বৃহত্তম চামড়ার মোকাম যশোরের রাজারহাটে ঈদ পরবর্তী প্রথম হাট ছিল শনিবার। হাটে এসে ব্যবসায়ীরা পুরোপুরি হতাশ বলে জানিয়েছেন। তাদের দাবি প্রতিটি চামড়া তারা কেনা মূল্যের চেয়ে এক থেকে দেড়শ'টাকা কমে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন।
তবে, ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, চীনা পণ্যের উপর আমেরিকা যে ২৫ শতাংশ ভ্যাট বসিয়েছে সে কারণে চামড়ার বাজারে এই অস্থিরতা। কেননা আমাদের চামড়ার বড় বাজার চীন। বাংলাদেশের প্রায় ৬০ শতাংশ চামড়ার ক্রেতা চীন।
বৃহত্তর যশোর জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন মুকুল বলেন,‘ঈদ পরবর্তী প্রথম হাটে প্রায় ৬০ হাজার গরু ও ৪০ হাজার ছাগলের চামড়া উঠেছে। আজকের হাটে প্রায় ৫ কোটি টাকার বেচাকেনা হবে। ট্যানারি মালিকদের বেঁধে দেওয়া দামের চেয়ে কম দামে চামড়া বিক্রি হয়েছে। নগদ টাকার সঙ্কটও এর অন্যতম কারণ।’ তবে, তিনি আশা করছেন আগামী শনিবারের হাটে বেচাকেনা আরও বেশি হবে।
হাট ঘুরে দেখা গেছে, এদিন গরুর চামড়া ৩৫-৪০ টাকা ও ছাগলের চামড়া ১৫-১৮ টাকা বর্গফুট হারে বিক্রি হয়েছে।
ক্ষুদ্র ও মৌসুমী ব্যবসায়ীরা চামড়া বিক্রি করতে এসে হতাশা ব্যক্ত করেন।
সাতক্ষীরার শ্যামনগর থেকে হাটে এসেছিলেন শ্রীকান্ত বাবু। তিনি বলেন, ‘হাটে ২০০ পিস বড় সাইজের গরুর চামড়া এনেছি। এগুলো ৮০০-৯০০ টাকা দরে কিনেছি। সেগুলো প্রক্রিয়াজাত করতে ও পরিবহন খরচও লেগেছে। কিন্তু হাটে দাম করছে ৭০০-৮০০ টাকা। চামড়া বিক্রি না করে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়াই শ্রেয়।
আরেক ব্যাপারি নড়াইলের লোহাগড়ার মধুসূদন মণ্ডল। তিনি এনেছেন ৩৪০ পিস ছাগলের চামড়া। তিনি জানান, ভালও চামড়া প্রতিপিস প্রায় ৫০ টাকা দরে কিনলেও বিক্রি করতে হচ্ছে ২৫ টাকায়। তাও বেছে বেছে নিচ্ছে আড়ৎদাররা। আর অন্যগুলো বিক্রি করেছেন ১৫ টাকায়। এবারের হাটে বেশ ক্ষতি হয়ে গেল।
স্থানীয় আড়ৎদার জিল্লুর রহমান বলেন, ‘ঢাকা থেকে বেঁধে দেওয়া দামে নিয়ে খুচরা বাজারেও বিক্রি করা যাচ্ছে না। এছাড়া নগদ টাকার সঙ্কটের পাশাপাশি ট্যানারি মালিকদের কাছে অনেক টাকা পাওনা রয়েছে।
ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, আরও অন্তত দুই হাটে কোরবানির পশুর চামড়া বেচাকেনা হবে।
আগামী শনিবারের হাটে কাঙ্ক্ষিত লাভের মুখ দেখতে পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।








