২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার প্রতিবাদ জানাতে ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বুধবার (২৯ আগস্ট) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়টির ভিসি প্রফেসর ড. রাশিদ আসকারী বলেছেন, রাষ্ট্রীয় শক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা চালানোর মতো ঘটনা ঘটানো হয়েছিল। এই গ্রেনেড হামলাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টাও দেখা গেছে। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার বিচারের ব্যবস্থা হবে নির্বাচনের ব্যালট বাক্সে।
বেলা ১১টায় ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার প্রতিবাদে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে ভিসি প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারীর নেতৃত্বে প্রতিবাদ র্যালি বের হয়। র্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রশাসন ভবনের সামনে শেষ হয়। তারপর সেখানে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। ওই সমাবেশে ভিসি ছাড়াও বক্তব্য রাখেন প্রো ভিসি প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা প্রমুখ। এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এস এম আব্দুল লতিফ, প্রক্টর প্রফেসর ড. মাহবুবর রহমান, ছাত্র উপদেষ্টা প্রফেসর ড. রেজওয়ানুল ইসলাম, প্রগতিশীল শিক্ষক সংগঠন ‘শাপলা ফোরাম’ ও ‘বঙ্গবন্ধু পরিষদের’ নেতৃবৃন্দ।
ভিসি প্রফেসর ড. রাশিদ আসকারী সরকারের উদ্দেশে বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জাতীয়তাবাদী চেতনাকে নস্যাৎ করতে যেসব প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী জামায়াত-শিবিরসহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মৌলবাদী-জঙ্গিবাদী গোষ্ঠীকে উৎসাহিত করছে তাদেরকে শনাক্ত করুন। সরাসরি সম্পৃক্তদের ধরে বিচারের ব্যবস্থা করুন।’ প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীকে যারা আবার ক্ষমতায় আনতে চেষ্টা করছে তাদের প্রতিহত করতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সমস্ত বাংলার কোটি কোটি জাগ্রত জনতার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান তার দেওয়া ভাষণে বলেন, ‘৭৫ পরবর্তী সময়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করা হয়েছিল। এমন কি মিথ্যা ও মনগড়া ইতিহাস সাজিয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা করা হয়। জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসার পর মহান মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস চর্চা শুরু হয়। জনগণ সঠিক ইতিহাস জানতে পারে। এজন্য অপশক্তি বেশি দিন টিকে থাকতে পারেনি। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি সবসময় তৎপর মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলার জন্য।’
ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহার বক্তব্য, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনা দুইটি। একটি হচ্ছে ১৫ আগস্ট এবং অপরটি হচ্ছে ২১ আগস্ট। আমরা আর এমন দুর্ঘটনা দেখতে চাই না। তিনি বলেন, বাঙালি জাতীয়তাবাদ এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করার চেষ্টা সব সময় চলছে। এজন্য আমাদেরকে সজাগ থাকতে হবে।’








