বাগেরহাটে নছিমন চালককে হত্যার দায়ে চারজনের ফাঁসি

বাগেরহাট প্রতিনিধি
০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২০:৫৭আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২০:৫৮

বাগেরহাটে হত্যার ঘটনায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি

বাগেরহাটে মো. মামুন মোল্লা (২০) নামে এক নছিমন চালককে হত্যার দায়ে চারজনকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন। এই মামলায় অন্য একজনকে দুই বছরের কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন। আদালত একই সঙ্গে ফাঁসির দণ্ডাদেশপ্রাপ্তদের প্রত্যেককে পৃথক তিনটি ধারায় কুড়ি হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও নয় মাসের কারাদণ্ড দেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে হত্যার প্রায় পাঁচ বছর পর বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মো. হাফিজুর রহমান এই রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার সময় মো. সোহাগ ফকির ও ইব্রাহিম মোল্লা নামে দুই আসামি উপস্থিত ছিল। বাকিরা পলাতক রয়েছে।

নিহত মো. মামুন মোল্লা বাগেরহাট সদর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের হাকিমপুর গ্রামের আব্দুল্লাহ মোল্লার ছেলে।

দণ্ডাদেশপ্রাপ্তরা হলো, বাগেরহাট সদর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ খানপুর গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে মিজান (৩০), একই উপজেলার ভট্ট বালিয়াঘাটা গ্রামের প্রয়াত আব্দুল ফকিরের ছেলে মো. সোহাগ ফকির (২৯), একই গ্রামের আবাসন কেন্দ্রের গোলাম মোস্তফা ওরফে খান সাহেবের ছেলে ইব্রাহিম মোল্লা (২৮) এবং একই গ্রামের জুনু ওরফে ইসমাইল মোল্লা (৩৫)।

দুই বছরের কারাদণ্ড পাওয়া আসামি মো. জয়নাল আবেদিনের বাড়ি খুলনার দাকোপ উপজেলার চালনা গ্রামে।

মামলার নথির বরাত দিয়ে রাস্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ জাহিদ হোসেন বলেন, ‘২০১৩ সালের ১ সেপ্টেম্বর বাগেরহাট সদর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের হাকিমপুর গ্রামের আব্দুল্লাহ মোল্লার ছেলে নছিমন চালক মো. মামুন মোল্লাকে খুলনায় যাওয়ার জন্য স্থানীয় চার যুবক ভাড়া করে। তাদের নিয়ে মামুন খুলনার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পথে ওই চার যুবক খুলার বটিয়াঘাটা এলাকার ফাঁকা জায়গায় নিয়ে মামুনকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করে রাস্তার পাশের একটি ডোবার কচুড়িপানার মধ্যে লুকিয়ে রেখে নছিমনটি নিয়ে পালিয়ে যায়। এরপর থেকে মামুন নিখোঁজ ছিলেন। ছেলে মামুন নিখোঁজ হওয়ার দুইদিন পর তার বাবা আব্দুল্লাহ মোল্লা বাগেরহাট মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। ঘটনার প্রায় ছয় মাস পর নিহতের বাবা আব্দুল্লাহ মোল্লা স্থানীয় চার যুবকের কাছ থেকে খুলনার দাকোপ উপজেলার চালনা গ্রামের জয়নাল আবেদিন তার ছেলে নছিমনটি কিনেছে বলে জানতে পারেন। পরে  তিনি ২০১৪ সালের ১ জুলাই বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৩-৪ জনকে আসামি করে বাগেরহাট মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই হত্যা মামলাটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের হাতে যায়।পুলিশ সোহাগ ফকির ও ইব্রাহিম মোল্লাকে নারায়ণগঞ্জের একটি বস্তি থেকে গ্রেফতার করে। পরে তারা জিজ্ঞাসাবাদে নছিমন চালক মামুনকে হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের পরিদর্শক আমির হোসেন তদন্ত শেষে ওই বছরের ২৮ ডিসেম্বর পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আদালতের বিচারক ১২ জন স্বাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে চারজনকে ফাঁসি এবং একজনকে দুই বছরের দণ্ডাদেশ দেন।

/জেবি/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম