মোংলায় একটি মাদ্রাসার মাঠ দখল করে ঘাস চাষের অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি মেম্বারের বিরুদ্ধে। ওই মেম্বার তিন বছর ধরে উপজেলার উত্তর চাঁদপাই পীর মেছেরশাহ্ দাখিল মাদ্রাসার মাঠে ঘাষ চাষ করছেন। এত বিপাকে পড়েছে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। মাঠ না থাকায় টিফিনের সময় তারা খেলাধুলা করতে পারছে না।
শনিবার (৮ সেপ্টম্বর) সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, মাদ্রাসাটির মাঠ বলতে কিছু নেই। পেছনের অংশে নেট জাল দিয়ে ঘেরা প্রায় ১২ শতক জায়গায় দুই হাত লম্বা সবুজ ঘাস। এই জমিই ছিল মাদ্রাসাটির মাঠ।
মাঠ নিয়ে রিপোর্ট করার কথা শুনে দৌড়ে আসে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র হোসাইন শেখ। সে বলে, ‘স্যার স্যার দেখেন আমাদের মাঠ আটকিয়ে মেম্বার গরুর জন্য ঘাস চাষ করছেন। আমরা কোথায় খেলবো বলেন?’
মাদ্রাসাটির সুপার (প্রিন্সিপাল) হুমায়ূন কবির বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মাঠ দখল করে মতি মেম্বার ঘাস চাষ করছেন। তবে এতে আমার কোনও হাত নেই। মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির নির্দেশে আমি কেবল ঘাস চাষ করার অনুমতি দিয়েছি।’ এজন্য মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের অসুবিধা হচ্ছে বলেও স্বীকার করেন তিনি।
এ ব্যাপারে মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও চাঁদপাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোল্লা তারিকুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় জহুর আলী ও মিলন শেখ জানান, তিন বছর ধরে মাঠটি দখল করে চাঁদপাই ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের মেম্বার মতিউর রহমান তার উন্নত জাতের গরুর জন্য ঘাস চাষ করে আসছেন। ঘাস চাষের আগে ওই মাঠে তিনি পেঁপে, কলাসহ বিভিন্ন শাক-সবজির চাষ করে ব্যবসা করেছেন। এর সঙ্গে মাদ্রাসার প্রিন্সিপালও জড়িত বলেও জানান তারা।
তারা আরও জানান, মেম্বার মাঠ দখল করে রাখায় মাদ্রাসায় ছেলেমেয়েরা খেলাধুলা করতে পারে না। এটি কি হতে পারে? মেম্বার চেয়ারম্যানরা প্রভাবশালী হওয়ায় এ নিয়ে অভিযোগ দিয়েও লাভ হয়নি। আপনারাও লিখে কিছু করতে পারবেন না।
এ বিষয়ে মতি মেম্বার বলেন, ‘মাঠ দখল করে ঘাস চাষ করে গরুকে খাওয়াই- এ নিয়ে আমি মিথ্যা বলবো না। আমি ওই মাঠ ভরাট করে কলা, পেঁপে ও পেয়ার গাছ লাগিয়েছি, এখন ঘাস চাষ করছি। ঘাস বড় হলে মাঠ ছেড়ে দেবো।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মাঠে ছেলেমেয়েরা খেলাধুলা করবে কোনও সমস্যা নাই। ঘাস বড় হলে খেলাধুলার পরিবেশ করে দেবো।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রবিউল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মাদ্রাসার মাঠ দখল করে ঘাস চাষের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আমি দ্রুত এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিচ্ছি।’








