ভুক্তভোগীদের আপত্তিকর ছবি তুলে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আদায়কারী চক্রের দুই সদস্যকে সোমবার বিকালে র্যাব-৬ গ্রেফতার করেছে। মঙ্গলবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে, অভিযুক্তরা ব্ল্যাকমেইল করে প্রায় ৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছিল কয়েক বছর আগে। আবারও অর্থ আদায়ের চেষ্টা করলে ভুক্তভোগীর পরিবার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শরণাপন্ন হয়। গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে সোনাডাঙ্গা থানার ছোট বয়রা করিমনগরের মৃত কাজী আব্দুর রউফের পুত্র কাজী আব্দুল মুনিম ও তার স্ত্রী মোসা. তানজিলা হাসান ঝুমা।
র্যাব-৬-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ এনায়েত হোসেন মান্নান জানিয়েছেন, প্রেমের ফাঁদে ফেলে বা কৌশলে নারীদের সঙ্গে আপত্তিকর ছবি তুলে তা ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হতো ভুক্তভোগীদের। এর মাধ্যমে অভিযুক্তরা মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়া ও আরও অর্থ আদায়ের চেষ্টার করছিল। এমন সংবাদের ভিত্তিতে ২৪ সেপ্টেম্বর বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে মহানগরীর সদর থানাধীন নিরালা আবাসিক এলাকার অভিযান পরিচালনা করে র্যাব-৬।
জিজ্ঞাসাবাদে আসামিদের দেওয়া তথ্য থেকে জানা যায়, গত ৪ বছর আগে ওয়াজেদ আলী নামক ব্যাক্তিকে তারা আলী ক্লাবের মোড়ে একটি তিনতলা বাড়ির নিচতলায় ব্যবসায়িক কাজের কথা বলে নিয়ে যায়। সেখানে একটি মেয়ের সঙ্গে তার আপত্তিকর ছবি ও ২০ মিনিটের ভিডিও ধারণ করা হয়। অভিযুক্তরা ধারণকৃত ছবি ও ভিডিওগুলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে প্রচারের হুমকি দিয়ে অর্থ দাবি করে। ওয়াজেদ আলীর কাছ থাকা চেক বইতে তারা জোর করে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়। এরপর আসামী কাজী আব্দুল মুনিম তাৎক্ষণিকভাবে ব্যাংক থেকে ৮ লাখ টাকা তুলে নেয়। পরে ভুক্তভোগীর ছেলে মো. তৌহিদুজ্জামান সুমনের কাছ থেকে ২ লাখ টাকা নেয়। এছাড়াও, ওয়াজেদ আলীর স্ত্রীকে বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে আরও ২০ লাখ টাকা আদায় করে। ওই পরিবারটিকে ব্ল্যাকমেইল করে ধাপে ধাপে মোট ৩০ লাখ টাকা আদায় করে অভিযুক্তরা।
৩০ লাখ টাকা নেওয়ার পর তারা কয়েক বছর নিশ্চুপ ছিল। কিন্তু গত ১৮ সেপ্টেম্বর দুইটি মোবাইল ফোন নম্বর থেকে পুনরায় ৫০ হাজার টাকার দাবিতে তারা যোগাযোগ করে। পরিবারটি বারবার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। স্থায়ীভাবে বিষয়টির সমাধানের কথা বলে রেশমা নামক এক অভিযুক্ত আরও ২০ লাখ টাকা দাবি করে এবং তা একটি বিকাশ নম্বরে পাঠাতে বলে।
১৮ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে একটি বিকাশ নম্বরে ১০ হাজার করে দুইবারে ২০ হাজার টাকা পাঠায় ভুক্তভোগী পরিবারটি। অভিযুক্তরা আরও দুইটি বিকাশ নম্বর দিয়ে বাকি ৩০ হাজার টাকার পাঠানোর জন্য চাপ দেয়।
এসময় তারা ভুক্তভোগীর পুত্রবধূ শ্রাবনীর আপত্তিকর ছবি বানিয়ে তা ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। এরপর ভুক্তভোগীর পরিবারটি খুলনা সদর থানায় সাধারণ সাধারণ ডায়েরি করে (নং-১২৪০, তারিখ-২০/০৯/১৮) এবং খুলনার র্যাব-৬ কার্যালয়ে অভিযোগ দাখিল করে।
২০ সেপ্টেম্বর আসামীদের দাবিকৃত বাকি ৩০ হাজার টাকার মধ্যে প্রায় দুই তৃতীয়াংশ দুই বিকাশ নম্বরে পাঠানো হয়। তদন্তে জানা যায়, ওই নম্বর দুইটি গ্রেফতারকৃত মোসা.তানজিলা হাসান ঝুমার।
আসামিদের কাছ থেকে ইন্টারনেটে পাঠানো কাগজপত্রের ৪০ পাতা ফটোকপি, প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ১২টি সিম, ১টি মেমোরি কার্ড ও ১টি সিমসহ মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মহানগরের সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।








